শেখ হাসিনার নীলনকশা: দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার নীলনকশা: দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এসব পরিকল্পনায় মূল টার্গেট করা হয়েছে কারাগার, হাসপাতাল, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক ইস্যুগুলো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে সহানুভূতি আদায় ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কৌশলও রয়েছে দলটির।

কারাগারে অস্থিরতা

সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে গাজিপুরের কাশিমপুর, যশোর এবং সিলেট কারাগারকে অস্থির করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনকে এ কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত জাহাঙ্গীরকে শেখ হাসিনা একাধিকবার ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন, বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে দেশের সব কারাগারে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এতে দেশ বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যে পড়বে বলে বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

হাসপাতালে কৃত্রিম সংকট

হাসপাতালে চিকিৎসা সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার পরিকল্পনাও রয়েছে। তা হতে পারে ডাক্তার কিংবা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে, অথবা যন্ত্রপাতি নষ্ট করে বা পরীক্ষার কিটের সংকট সৃষ্টি করে সেবায় বিঘ্ন ঘটানো। এতে স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এবং অস্থিরতা তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধ এবং শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজকে দিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এ সময়, যদি কারও গ্রেপ্তার বা হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে সহানুভূতি আদায় করা হবে।

নেতাদের অবস্থান ও সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমানে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, আর ঢাকার প্রভাবশালী নেতারা কলকাতায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় পর্যায়ের যারা বেশি ‘ডেসপারেট’, তারা সরাসরি আন্দোলন ও সহিংস মিশনে অংশ নেবেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিরও পরিকল্পনা রয়েছে। ভুয়া তথ্য এবং প্রচারণা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশলও হাতে নেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশে হামলা

সূত্রের দাবি, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলার সমন্বয় করেছেন শেখ হেলাল। হামলায় অংশ নেওয়া অনেকে পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদেরও একইভাবে পুরস্কৃত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদি তারা অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।

কলকাতার ‘জয় বাংলা চত্বর’

কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মার্কিউ স্ট্রিটের কস্তুরির সামনের একটি স্থানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জয় বাংলা চত্বর’। এখানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সাবেক এমপি-মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়মিত আড্ডা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে জমে ওঠা এ আড্ডাতেই বাংলাদেশের অস্থিরতার পরিকল্পনা হয়। নিয়মিত এখানে দেখা যায়—জাহাঙ্গীর কবির নানককে, তার পিএস, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন নাদেল, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর, আজমত উল্লাহ খান, কাউন্সিলর রতন (সেগুনবাগিচা), সাবেক এমপি হাবিব হাসান (ঢাকা-১৮), স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোবাশ্বের, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবজালুর রহমান বাবুসহ আরও অনেককে। কলকাতায় যারা আছেন, তাদের অনেকেই নিয়মিত এখানে আসেন। আর যারা নিয়মিত আসতে পারেন না, তারা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে আসেন।

শেখ হাসিনার অনলাইন বৈঠক

কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাইফুজ্জামান শিখরের ব্যবসায়ী কার্যালয় রয়েছে। প্রয়োজনে, নেতারা শিখরের অফিস থেকে অনলাইনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভিডিও বা অডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা সেখানেই নির্দেশনা দেন, এবং তা জেলা-উপজেলার নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সামনে বড় অস্থিরতার শঙ্কা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের এ নীলনকশা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ