সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা কিছু রাজনৈতিক দলের অযৌক্তিক দাবি: নজরুল ইসলাম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:০৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা কিছু রাজনৈতিক দলের অযৌক্তিক দাবি: নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা কিছু রাজনৈতিক দলের অযৌক্তিক দাবি বলে মন্তব্য করেছেন নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পিআর পদ্ধতি দাবি করার দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, যিনি ঐক্যমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি দলেরও সদস্য, এই মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “পিআর কি? ব্যাপারটা তো আপনি নিজেরা পরিষ্কারই করছেন না। আপনি কী ধরনের পদ্ধতি চান, যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে? আমরা কি কেউ কখনো জনগণকে জিজ্ঞাসা করেছি? ঢাকার পাশে কেরানীগঞ্জে যান। সেখানে একজন লোককে বলেন, ‘এতদিন আপনি যেভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন, আমরা নতুন একটা পদ্ধতি চাচ্ছি যাতে ভোটের মূল্য থাকবে, যাতে অংশগ্রহণ আনুপাতিক হারে হবে। সেখানে আপনি কোনো ব্যক্তিকে না, দলকে ভোট দেবেন, এবং দল এমপি মনোনীত করবে। আপনার এই এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো এমপি থাকবে না। আপনি কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না।’ এই কথাগুলো কী বলছেন এলাকার মানুষজনকে? তাদের মতামত চাইছেন কি, তারা রাজি কী রাজি না। যখন এই নিয়ে (পিআর) ইনসিস্ট করা হয়, তখন সন্দেহ করা যায় যে এটা একটা অযৌক্তিক চেষ্টা, যেটার অনিবার্য পরিণতি হতে পারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে।”

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যে, যেহেতু বিষয়টা নিয়ে জবরদস্তি করা হচ্ছে বা চেষ্টা করা হচ্ছে, এবং এর ভিত্তিটা দুর্বল। সাধারণ মানুষ এটার মধ্যে প্রাসঙ্গিক করা হয়নি। সেহেতু এটা নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা হবে বলে আমরা মনে করি না। এক সময় দেখা যাবে যে, এটা বন্ধ হয়ে গেছে।”

একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “যদি আপনি এটা (পিআর) রাজিও হন, তাহলেও এই নির্বাচনে তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। কারণ সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়। আর সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা তো সংসদের। কাজেই করতে হলেও এর পরের নির্বাচনের প্রশ্ন আসবে।”

নজরুল বলেন, “যেকোনো রাজনৈতিক দলের যেকোনো রাজনৈতিক নেতার কোনো চিন্তা-ভাবনা থাকতে পারে। হতে পারে সেটা খুবই ভালো, হতে পারে যুগান্তকারী… কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, যেকোনো প্রস্তাব ভালো হোক বা মন্দ হোক, বিজ্ঞ মানুষ বলুক আর আমাদের মতো মানুষ বলুক, যতক্ষণ তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সে পর্যন্ত এটি জনগণের জন্য কার্যকর হতে পারে না, হওয়া উচিত না।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দেখুন, আমাদের দেশে শুধু ভোট কীভাবে দেবেন—ব্যালট পেপারে দেবেন, সিল মারবেন, না মেশিনে টিপ দেবেন (ইভিএম মেশিন)—এ নিয়ে কত বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কী তার ফয়সালা হয়েছে? আর আপনি গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা বদলাতে চাচ্ছেন। সারাজীবন মানুষ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে, এখন সেটা পিআর মাধ্যমে। আপনি কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না, কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেউ ভোট দিচ্ছে না। কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি তার প্রতিনিধি হচ্ছে না। যারা প্রতিনিধি হবেন, তাদের নির্ধারণ করবে দল, জনগণ না। তারা কেউ নির্দিষ্ট এলাকার এমপি হবেন না, তারা হবেন দেশের এমপি। জনগণ তার সমস্যা নিয়ে কার কাছে যাবে, এটা নির্ধারিত থাকবে না। এ ধরনের বড় পরিবর্তন দেশের মালিক জনগণের কাছে পরিষ্কার করা হচ্ছে না।”

সংবাদ সম্মেলনে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে, জাতীয় কমিটির সদস্য দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, মাহবুবে রহমান শামীম, জিকে গউস, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, শামা ওবায়েদ ও শাহিন শওকত উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ