সংসদে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩১ বিল পাসের রেকর্ড - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংসদে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩১ বিল পাসের রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩১টি বিল পাসের নজির স্থাপিত হয়েছে, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে এসব বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ ছাড়া গত পাঁচ কার্যদিবসে মোট ৬৮টি বিল পাসের ঘটনাও নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সদস্যরা আইন প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় সহায়তার পর শেষ মুহূর্তে এসে ওয়াকআউট করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, অধিকাংশ বিল মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে পাস করা হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের গতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে গত ৫ কার্যদিবসে মোট ৬৮টি বিল পাস হয়। গত রবিবার ২টি, সোমবার ৭টি, মঙ্গলবার ১৪টি, বুধবার ১৪টি এবং বৃহস্পতিবার পাস হয় ৩১টি বিল।

এদিকে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চলতি অধিবেশন শুরুর পর নির্ধারিত ৩০ দিন, অর্থাৎ ১০ এপিলের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, সংবিধানের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের চাপ থাকায় দ্রুত বিল পাস করতে হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলোকে বিল আকারে পাস করতে শুক্রবারও (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে অধিবেশন।

বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’। এসব বিলের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় মানবাধিকার বিল, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধনী বিল, সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল এবং স্থানীয় সরকারের ৫টি বিল পাসের ব্যাপক বিরোধিতা করে। বিরোধী দলের বাধা সত্ত্বেও এসব বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে আজ সন্ধ্যায় ওয়াকআউট করে জামায়াত জোট। এ নিয়ে চলতি সংসদে তৃতীয়বারের মতো ওয়াকআউট করল তারা। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণবিরোধী বিল’ পাসের দায় তারা নেবেন না। সব মিলিয়ে দ্রুততার সঙ্গে আইন পাস এবং বিরোধী দলের প্রতিবাদকে ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়।

এ ছাড়া বিল পাসকে কেন্দ্র করে সংসদে তীব্র বিতর্ক হতে দেখা যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করে আনা বিল সংসদে পাস হয়েছে। ওই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগের মানবাধিকার কমিশন মূলত বিরোধী দল দমনের কমিশন হিসেবে কাজ করেছে। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জিয়া পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শিকার। সরকার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি করলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়। আর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকল না। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও থাকল না। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে।

বিরোধী দল অভিযোগ করে, গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো যথাযথ আলোচনা ছাড়াই পাস করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহালকে ‘পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন বিরোধী সদস্যরা। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন তারা। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কমিশনের কার্যক্রমে শূন্যতা এড়াতে এবং আইনি অসংগতি দূর করতেই এসব বিল আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।

বৃহস্পতিবার পাস হওয়া বিল

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৪’ রহিত করে ২০০৯ সালের মূল ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনঃপ্রচলন করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ পাস করা হয়। এ ছাড়া আরও যেসব বিল পাস হয়েছে সেগুলো হলো:
২. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৩. বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৪. শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৫. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৬. পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৭. বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৮. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল-২০২৬।
৯. স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল-২০২৬।
১০. আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল-২০২৬।
১১. অধিবেশনে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল-২০২৬’।
১২. ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এর ফলে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫’ বিলটি রোহিত করা হয়।
১৩. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধনী বিল-২০২৬।
১৪ . ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬।
১৫. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন বিল)-২০২৬।
১৬. বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল-২০২৬।
১৭. মানবদেহে অঙ্গপ্রতঙ্গ সংযোজন বিল-২০২৬।
১৮. বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবকমূলক) রেগুলেশন সংশোধন বিল-২০২৬।
১৯. মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল-২০২৬।
২০. বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল-২০২৬।
২১. বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংশোধন বিল ২০২৬ পাস করা হয়েছে। বিলটিতে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে ‘বাংলাদেশ নভোথিয়েটার’ করা হয়েছে।
২২. বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) বিলটি পাস হয়েছে, বিলটি সংশোধিত নামকরণ করা হয়েছে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট বিল ২০২৬’।
২৩. জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২৬।
২৪. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা-সংশোধন) বিল-২০২৬।
২৫. স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন (সংশোধন) বিল-২০২৬।
২৬. বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬।
২৭. ‘টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩’ রোহিত করে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬’ পাস।
২৮. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২৬।
২৯. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল-২০২৬।
৩০. বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন অ্যামেনমেন্ট বিল-২০২৬।
৩১. নেগোশিয়েবল ইনস্টুমেন্টস (সংশোধন) বিল ২০২৬।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ