সরকার আবারও দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে : ড. মঈন খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার আবারও দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে : ড. মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ৫, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ৫, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতায় দেশে অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্য দেখা দিয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বিশ্বের যে দেশে এ ধরনের বৈষম্য বিরাজমান সেদেশে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। আজকে ঢাকা শহরে শুধু ফ্লাইওভার আর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দেশের মানুষের উন্নয়ন হয় না। যদি না আমরা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা দিতে না পারি!

বুধবার ইফতারপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মঈন খান এসব বলেন।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আমরা স্বাধীন করেছিলাম পাকিস্তানের শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু এই সরকার আবারও দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে। তারা মানুষের মতামতের তোয়াক্কা করে না। যেমনটি তারা ৭২ সালে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। আজকে বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করেছে। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করতে পারবো।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা কামনা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কারাবন্দি রুহুল কবির রিজভীসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নূরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইউট্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, ইফতার মাহফিল উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রমুখ।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের মানুষ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। আমরা সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো ইনশাআল্লাহ। হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে জনগণের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শিক্ষকেরা যে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ সেটি ইউট্যাবের এই ইফতার আয়োজন প্রমাণ করে। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এই বাংলাদেশে কেনো আজও পথশিশু রয়েছে। এই সরকারের ব্যর্থতায় দেশে সমাজে ব্যবধান ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ধনী গরিবের ব্যবধান দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। এটাকে রোধ করতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা সমৃদ্ধি কোনোটাই টেকসই হবে না।

ড. মঈন খান আরও বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু এই সরকারের শিক্ষানীতি হলো দেশের মানুষকে অশিক্ষিত করে রাখা। মানুষ যাতে তাদের অধিকারের কথা বলতে না পারে, তারা শিক্ষিত হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করবো। আমাদের চলমান আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইউট্যাব যে ব্যাতিক্রম ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তা সরকারের জন্য চরম শিক্ষা। দেশের গরিব মানুষকে সাথে নিয়ে যে ইফতার করতে পারে এটি তার অনন্য দৃষ্টান্ত। কেননা বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি উদাসীন। দেশে চলছে হাহাকার। এরইমধ্যে রাজধানীর বঙ্গবাজারে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তা খুবই রহস্যময়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য এটা ঘটানো হতে পারে। আজকে দেশের মানুষ তাদের মুক্তির জন্য লড়াই শুরু করেছে। কারণ তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন বা মুক্ত নয়।

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে গরিব, অসহায় ও পথশিশুদের মধ্যে ৬০ জনকে ঈদের নতুন পোশাক উপহার হিসেবে প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।

ইউট্যাবের নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশিদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম, অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং রতন, অধ্যাপক ড. দেবাশীষ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোলাম হাফিজ কেনেডি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নসরুল কদির, রুয়েটের অধ্যাপক আকতার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক একেএম মতিনুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আবু জাফর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ন ম রইছ উদ্দিন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, খান মো. মনোয়ারুল ইসলাম শিমুল, শের মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মফিদুল আলম, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মো. জাকির হোসেনসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ