সরকার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে’ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩৫, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণে আন্তর্জাতিক আদর্শকে ধারণ করে সংলাপ ও সহযোগিতার এই আদর্শকে ধারণ করেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে একটি শান্তিকেন্দ্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি চালনা করছেন।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের প্রতিটি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করে। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের শান্তিরক্ষীরা তাদের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও সক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন। এর ফলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্রমাণ্যয়, বৃদ্ধি পায় এবং সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ সদস্যরা যেমন দেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন, একইভাবে সারা বিশ্বে শান্তি রক্ষার মধ্য দিয়ে তারা একটি অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। আমাদের সব শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি আজকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব এবং আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সীমানার গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থীতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের নিঃস্বার্থ সেবা আমাদের জাতির জন্য অনন্য গৌরব ও মর্যাদার একটি উজ্জ্বল প্রতীক। একইসঙ্গে আমি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রিয়জন হারানো শোকাহত পরিবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি; যার মধ্যে গত ডিসেম্বরে সুদানে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো ছয় জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীও রয়েছেন। মাত্র কিছুদিন আগেই জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের এই ছয় বীর শহীদকে মরণোত্তর জ্যাক হামারস পদক প্রদান করেন; যা জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননার মধ্যে অন্যতম। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, যেসব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অন্যরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সাহসী শান্তিরক্ষীরা দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার আমাদের শান্তিরক্ষীদের এই বীরত্ব ও সাহসিকতার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে আরেকটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে গর্বিত করে, তা হলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ। এটি নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে আমাদের নারীদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমাদের বর্তমান সরকার জাতিসংঘের নারী শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ড আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। প্রথমত শান্তিরক্ষীতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিকে অবশ্যই সব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। সে জন্য মিশনের ম্যান্ডেটকে বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ সামরিক জনগণের সুরক্ষাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তৃতীয়ত আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে দায়িত্বশীল, নৈতিক এবং জবাবদিহীমূলক পদ্ধতিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং উদয়মান প্রযুক্তিগুলোকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে একীভূত করতে হবে এবং তারল্য সংকটের কারণে শান্তিরক্ষা মিশনের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ