সরকার যতবেশি অত্যাচার করবে ততবেশি মানুষ ফুঁসে উঠবে : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ৮:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ১১:০০ অপরাহ্ণ

কারাগার থেকে মুক্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলন সফল হবেই। ক্ষমতাসীনরা গ্রেপ্তার করে ভোটাধিকারের আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। সারা দেশ আন্দোলনে প্রকম্পিত হচ্ছে। সরকার যত বেশি অত্যাচার করবে ততবেশি মানুষ ফুঁসে উঠবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে কারা ফটকের সামনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমানোর জন্য এ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন করছে। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আমি অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করছি। আমি বিশ্বাস করি, অবিলম্বে জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফল হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
দেখা গেছে, সাদা পাজেরো জিপে করে বিএনপি মহাসচিব কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসনে। হুড খোলা গাড়ির ওপর থেকে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান ও বক্তব্য দেন। এরপরই ক্রিম কালারের গাড়িতে কারাগারের প্রধান ফটকে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনিও গাড়ির ওপর থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
কালবেলা পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা মুক্ত হন। হাইকোর্টের দেয়া ৬ মাসের জামিন আদেশ বহাল রাখলে এই দুই নেতা মুক্তির পথ খুলে যায়।
কেরানীগঞ্জের কারাগারে মুক্তির সময় মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামীমুর রহমান শামীম, এসএম জাহাঙ্গীর, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শাহ রিয়াজুল হান্নান, আনোয়ার হোসাইন, ইউনুস মৃধা, শায়রুল কবির খানসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা স্লোগান দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। পরে দলের মহাসচিব সড়ক পথে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ৩২টা দিন এই সরকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের জীবনে এই বয়সে অসুস্থ অবস্থায় আমরা দেশের কথা বলতে গেছি, আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যের কথা বলতে গেছি, আমরা দেশের মানুষের ভোটাধিকারের কথা বলতে গেছি। আমরা দেশের মানুষের খাদ্যের কথা বলেছি, আমরা বাজার দরের কথা বলেছি। এটা কী আমাদের অন্যায় হয়ে গেছে? আমরা কী কোনো অন্যায় করেছি? আমরা কোনো অন্যায় ও পাপ করি নাই। এই সরকার আমাদের একে একে বেশ কয়েকবার জেলে নিয়ে, আমাদের সময় এবং নেতাকর্মীদের কাছে থাকা থেকে বঞ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিটা নিঃসন্দেহে আনন্দের হলেও সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- জেলখানায় আমাদের হাজার হাজার ছেলে রয়ে গেছে বন্দি। এই ছেলেদের দুঃখ-দুর্দশা আপনাদের আমি বর্ণনা করতে পারব না এই মুহূর্তে। ওই নেতাকর্মীরা কি অবস্থায় আছে এক আল্লাহ মা’বুদ জানেন। আমরা দেখে এসেছি। তবে এই সরকারের কাছে আশা করাটা খুব মুশকিল। তারপরও বলব- আপনারা (সরকার) এই কারাবন্দিদের প্রতি দয়া করে একটু বিবেকবান হবেন, বিবেককে কাজে লাগান। একটু দেখে যান তারা কেমন আছে?
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, পত্রিকায় দেখলাম সরকার মানবতার কথা বলেছে। আমি আহ্বান জানাব- এই বন্দিদের প্রতি আপনারা মানবিক হন। এরা চোর, ডাকাত নয়। এরা সব রাজনৈতিক কর্মী। ওরা দেশের মানুষের কথা বলার কারণেই আজকে কারাগারে। কারাবন্দি অবস্থায় নিজের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কারাগার থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। তারা সেখানে পৌঁছালে আগে থেকেই অপেক্ষারত হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, নবী উল্লাহ নবী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের মোনায়েম মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৫ সালে প্রায় ৯ মাস কারাবাসের পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালে মির্জা আব্বাস আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নাচক করে দিয়ে কারাগারে যান। তবে ১৮ দিন পর উচ্চ আদালতের জামিনে তিনি মুক্ত হন। গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দীন খানের বেঞ্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে ৬ মাসের জামিন দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানালে তা সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট হাইকোর্টের দেয়া আদেশই বহাল রাখে।
কারাবন্দি হওয়ার পর বিএনপির এই দুই নেতা জামিন আবেদন তিন দফা ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাকচ হয়। পরে গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতেও সেই আবেদন নামঞ্জুর হয়। গত ৮ ডিসেম্বর পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) উত্তরার বাসা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও শাহজাহানপুরের বাসা থেকে মির্জা আব্বাসকে আটক করে গোয়েন্দা দপ্তরে নিয়ে যায়। পরদিন নাশকতার একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে জামিন আবেদন করা হলেও তা নাকচ করে পাঠানো হয় কারাগারে।
গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ও স্থান নির্ধারণ নিয়ে উৎকণ্ঠা-উত্তেজনার মধ্যে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে জমায়েত হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও শতাধিক আহত হয়। সেদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাড়ে চার শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও রমনা থানায় চারটি মামলা করে পুলিশ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার নেতকর্মীকে আসামি করা হয় সেসব মামলায়। তাদের মধ্যে ৭২৫ জনের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই তালিকায় মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের নাম ছিল না।
জনতার আওয়াজ/আ আ