সরকার হটানোই বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ: খন্দকার মোশাররফ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৪৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকার হটানোই বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ: খন্দকার মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ৯:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ৯:২২ অপরাহ্ণ

 

সরকারকে হটানোই বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের মূল দাবি- সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বাতিল করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে মুক্তভাবে রাজনীতি করতে দেয়ার পরিবেশ তৈরি করা।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক উম্মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

মোশাররফ বলেন, বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রসমাজকে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে সরাতে হলে ছাত্রদলকে সামনের কাতারে থেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা যেখানে ব্যর্থ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানেই সফল। ৭ নভেম্বর দিনকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিতর্কিত করছে। অথচ সেই দিনটি বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এদিন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আকাঙ্খা পুনরুদ্ধার হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা দিকনির্দেশনা দিবেন। কিন্তু সেটা হয়নি। পরে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। দেশে সমাজান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাটের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল। দেশে রক্ষী বাহিনী তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। একপর্যায়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দেশে পরিবর্তন এসেছিল। সেই পরিবর্তনকে আবারো অভ্যুত্থান করে থামাতে চেয়েছিল খালেদ মোশাররফ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই বলেন, ৩-৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। রেডিও, টিভি বন্ধ ছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। ঠিক সে সময় দেশের সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সিপাহী জনতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই দিনকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ পালন করছে। আসলে তারা পরিবর্তন সহ্য করতে পারেনা।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতার ফসল। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাস বিকৃত করে জিয়াউর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করতে চায়। সেজন্য তারা এ দিনটিকে পছন্দ করে না।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, গায়ের জোরের সরকার বার বার দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে ক্ষমতায় আছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে বারবার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। চাপাবাজি দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে গণতন্ত্র হত্যা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। তারা আইএমএফ’র প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। তাদের লুটপাটের কারণে দেশে ডলার সঙ্কট।

দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে ভিড় করতে থাকে। সমাবেশকে ঘিরে নয়াপল্টনের একটি সড়ক বন্ধ হওয়ায় রাজধানীর শান্তিনগর, কাকরাইল মোড়, বিজয়নগর, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলে পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, মীর সরফত আলী সপু, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, রাজীব আহসান, ফজলুর রহমান খোকন, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খান, তানজিল হাসান, তবিবুর রহমান সাগর, মারুফ এলাহী রনি, মাহবুব মিয়া, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, আবু আফসান মো. ইয়াহিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ