সরকারদলীয়দের ‘মুর্খ' বললেন চুন্নু - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৩২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারদলীয়দের ‘মুর্খ’ বললেন চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩ ৯:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩ ৯:০০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা না পেয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার প্রয়োজন আছে বলেই নৌকা এখানে (করিমগঞ্জ-তাড়াইলে) তাকে ছাড়তে হয়েছে। নিশ্চয়ই একটা কিছু গুরুত্ব আছে, নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।’

তিনি বলেন,‘শেখ হাসিনার বাবার মার্কা নৌকা, উনার (শেখ হাসিনার) বাবা ৭০ সালে এই নৌকা দিয়ে ইলেকশন করেছে। পরে শেখ হাসিনা তার মার্কা, এত প্রিয় মার্কাটা এখান থাইকা ছাড়তে হইছে কলম দিয়া। এটা নিশ্চয়ই উনার কোনো প্রয়োজন আছে বলেই ছেড়েছেন। এ বিষয়টা যদি আওয়ামী লীগের লোকেরা না বুঝে। তাদের এই কারণটা, পলিটিক্সটা বুঝা উচিত, তাদের দলকে সহযোগিতা কে কতটুকু, কিভাবে হচ্ছে, যদি না বুঝে তাহলে তারা মুর্খ।’

মুজিবুল হক চুন্নু শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে তার নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কাজলা গ্রামে ‘সর্বস্তরের জনসাধারণকে’ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ ছিল এই মতবিনিময় সভা। এর আগে নির্বাচনী পোস্টারে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন চুন্নু। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটিতে লাঙ্গল প্রতীককে ছাড় দিয়ে নৌকার প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদের মনোনয়ন তুলে নেয় আওয়ামী লীগ।

মত বিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের উদ্দেশে চূন্নু বলেন, ‘এখন নির্বাচন আসছে, অনেক আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা আছেন, আপনারা যারা আওয়ামী লীগ আছেন, আপনাদেরকে বলব যে, আমি নির্বাচনে এমপি হইলে একটা কিছু হয়ে গেলাম, তা না। মন্ত্রী হইলে কিছু হয়ে গেলাম তা না। এগুলো আমার জন্য পুরনো।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘মন্ত্রীর প্রতি আমার এত খায়েশ নাই। আমি এমপি হইলে মানুষের জন্য কথা বলতে পারি এটা আমার সবচেয়ে ভাল্লাগে। পার্লামেন্টে কথা বলা, এগুলো আমি পারি। পারার মতো জ্ঞান বুদ্ধি আল্লাহ আমারে যথেষ্ট দিছে।’

তিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করেন জানিয়ে বলেন, ‘রাজনীতি করলে মানুষের জন্য কথা বলা যায়, চুরিও করা যায়, খারাপও করা যায়, ভালোও করা যায়। যে যেটা করে। কিন্তু রাজনীতি করলে মানুষের ভালো করতে গেলে অনেক ভালো করা যায়। মানুষের জন্য ফাইট করা যায়, মানুষের দাবি নিয়ে সারাদেশে বিদেশে সে দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বোচ্চ যারা আছেন তাদের কানে পৌঁছানো যায়। আমি এর জন্য রাজনীতি করি।’

তবে আওয়ামী লীগের লোকেরা বিষয়টি বুঝতে পারছে না উল্লেখ করে চুন্নু বলেন, ‘বুঝবে, বুঝবে নিশ্চয় খুব তাড়াতাড়ি বুঝবে। যাদের ব্যক্তি স্বার্থ আছে তারা কখনোই বুঝবে না।’

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

আসন সমঝোতায় নৌকার প্রার্থী মো: নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে সরে দাঁড়াতে হলেও মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। নৌকার ছাড়ের পরও ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন স্বতন্ত্ররা। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন তারা। এছাড়া চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতার চেষ্টাও শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এ পরিস্থিতিতে এবার জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু’র নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে না বলে মনে করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

অনেকের মতে, কৌশল করে নৌকাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চুন্নু’র জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এবার কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ