সরজমিন কুমিল্লা-৯প্রার্থীদের ঘিরে আলোচনা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৩৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরজমিন কুমিল্লা-৯প্রার্থীদের ঘিরে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১:১২ পূর্বাহ্ণ

 

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতীক বরাদ্দের পর জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার সর্বত্র চলছে আলোচনা ও দুই উপজেলার মধ্যে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। জানা যায়, এ আসনে নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্রসহ ৮ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পপতি আবুল কালাম। অপরদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে এই আসন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উত্তাপ বিরাজ করছে। অনেকে মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু দোলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় পাল্টে যায় সেই দৃশ্য। এখন সবাই বলছে, নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে আটজন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন, বিএনপি থেকে আবুল কালাম, জামায়াত থেকে ডক্টর সৈয়দ সরোয়ার সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের আলহাজ সেলিম মাহমুদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মীর মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। এ ছাড়া, স্বতন্ত্র থেকে সামিরা আজিম দোলা ও আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টি থেকে গোলাম মোস্তফা কামাল। দুই উপজেলার মধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে লাকসাম উপজেলার চাইতে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশি। প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ জনগণ নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে? মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে শিক্ষক ও তরুণ ভোটাররা বলেন, কৃষ্ণপুর গ্রামের মনসুর, চন্দনা বাজারে রফিকুল ইসলাম ও রহিম বলেন এতদিন মনে করেছি বিএনপি প্রার্থী আবুল কালামের সঙ্গে জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু পাল্টে যায় সেই দৃশ্য। নির্বাচনে দোলা একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে বিএনপি’র জন্য। এ ছাড়া তারা আরও বলেন, দোলা চাইবে তার বাবার ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগাতে। তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের এলাকায় বিএনপি প্রার্থী কালাম বিপুল ভোটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাকসাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে খিলা বাজারে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত ১৭ বছর ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারিনি। এবার অবশ্যই ভোট দিতে পারবো। আমাদের অত্র অঞ্চলে বিএনপি প্রার্থী পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে জামায়াত প্রার্থীও ভোট পাবে। কথা হয় ফেনুয়া গ্রামের বেশ কয়েকজন শিক্ষকসহ মসজিদের ইমামের সঙ্গে। তারা জানায়, আমাদের এই কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে দোলাও ভালো ভোট পাবে। লাকসাম উপজেলা ইছাপুর গ্রামের রফিক, সোহেলসহ অনেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়- আসন্ন নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন? তারা জানায়, যে প্রার্থীর পিছুটান থাকবে না, তাকে আমরা ভোট দেবো। তারা উল্টো প্রশ্ন করেন, হলফনামা কি দেখছেন তো? যে প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছে। এ ছাড়া, গত ২৬ বছর দলের পেছনে কালাম কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, তাকে ভোট দেয়া উচিত। জামায়াত প্রার্থী নিয়ে বলেন- সরোয়ার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আমাদের জন্য কী করেছেন? মনোহরগঞ্জ উপজেলা লক্ষ্মণপুর গ্রামের বাসিন্দা ইফনুস, আব্দুল হাই, রিপনসহ অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, দোলা ধানের শীষের পক্ষে লাকসাম উপজেলার কান্দিপাড় ইউনিয়নে গণসংযোগ করতে যায়। তখনকার সময় বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী কালাম গ্রুপের লোকেরা তার ওপর হামলা ও তার গাড়িবহরে ভাঙচুর ও দলীয় নেতাকর্মীদের আহত করে। তার কোনো বিচার কি পেয়েছে? দোলা ফুটবল মার্কা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন। কোন মার্কা সেটা বিষয় নয়, আমরা দোলাকেই ভোট দেবো।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ