সরিয়ে দেওয়া হলো দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো এসিল্যান্ডকে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরিয়ে দেওয়া হলো দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো এসিল্যান্ডকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ১১:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর ঘটনায় অভিযুক্ত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস ক্যাডারে কর্মকর্তা ফয়সাল আল নূরকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে প্রত্যাহার পূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের (সিলেট) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যাস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরাও।

এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন, দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল ও কুমিল্লার স্থানীয় পত্রিকা আমার শহরের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলিম।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। আজ (বুধবার) ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। খালাতো বোনের পক্ষ থেকে আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হলে আমার সহকর্মী মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে চান্দিনায় যাই।’

‘দুপুর পৌনে ২টার আমরা এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞাসা করি শুনানিটা আজ হবে কি না। এসময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি মোবাইল ফোন বের করে এর ভিডিও করার সময় তিনি আমার কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় আমি বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ডেকে আমাদের দুই জনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যান। এসময় আমরা বারবার তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।’

আব্দুল আলিম আরও বলেন, ‘থানায় নেওয়ার পর আমাদের মোবাইল ফোন থেকে সব ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন। আমরা যেন বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করি এই মর্মে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূর বলেন, ‘আমি যখন ওয়াশরুমে যাবো তখন দেখি তিনি আমার রুমে ঢুকে ভিডিও করছেন। তাকে না করার পরও তিনি ভিডিও অব্যাহত রাখেন। পরে তার মোবাইল ফোন নিতে চাইলে দুই জনের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে হাতকড়া পরানোর পর তিনি পরিচয় দেন সাংবাদিক। পরে থানায় বসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় দুজনের কাছ থেকে সাদা কাগজে মুচলেকা নেওয়া হয়।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ