সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য থামান : বরিশালের জনপ্রতিনিধিরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য থামান : বরিশালের জনপ্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
কমিটিতে ‘মাই ম্যান’ ও ‘অনুসারী’ ছাড়া কারও ভাগ্যে পদ-পদবি জোটে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিভিন্ন আসনের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য থামানোর জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির বরিশাল বিভাগের তৃণমূলের বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা।

তাঁরা বলেছেন, এখন আন্দোলনমুখী কমিটি গঠন করা দরকার। তাঁদের কাজের লোক দরকার, পদপ্রত্যাশী প্রয়োজন নেই। কিন্তু বতর্মানে প্রত্যেক ইউনিটে নিজেদের অনুসারীকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোনো নেতাকর্মী যাতে ওপরে না উঠতে পারেন, সে জন্য পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্লেইম গেমের রাজনীতি চলছে। এটা থেকে মুক্ত হতে না পারলে আগামীতে সরকার পতনের ‘এক দফার আন্দোলন’ ব্যাহত হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা এ মতামত দেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ভার্চুয়ালি লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে সবার মতামত শোনেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় ১৭৮ জন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ৩৮ জন বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও পাঁচজন কথা বলেন। তবে পরিচিতি পর্বে অনেকে পরিচয়ের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

সভার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশ বাঁচাতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে, খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে বিএনপির ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান আন্দোলনে তৃণমূলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনকে সফল করতে বিভক্তি ভুলে এক কাতারে আসতে হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ছিল রাগ, ক্ষোভ, হতাশা আর অভিমানের সুর। তারা বলেন, বরিশাল বিভাগের বেশিরভাগ এলাকা বিএনপির উর্বর ঘাঁটি। কিন্তু সংগঠন শক্তিশালী না করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো দল। এক সময় কমিটি গঠনে এলাকার গণমান্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। এখন সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য কিন্তু সাবেক এমপি কিংবা কেন্দ্রীয় নেতার কাছের লোক, ঘরের লোক, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দল আদর্শচ্যুত হচ্ছে। এভাবে পকেট কমিটি গঠন হলে দল পরিচালনা কিংবা আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য হবে।

অনেক প্রবীণ ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তাঁরা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। কিন্তু এখন তাদের কোথাও ডাকা হয় না, সম্মান দেওয়া হয় না। এমনকি কেউ খোঁজও নেয় না। দূর থেকে দলকে ভালোবাসা ছাড়া তাঁদের আর কিছু করার নেই। এখন যে সফল আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার পুরো কৃতিত্ব তৃণমূল নেতাকর্মী এবং তারেক রহমানের। এলাকাভিত্তিক নেতাদের অবদান খুব কম।

বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তাঁরা ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। এক সময় উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এখন হাইব্রিড নেতাদের কাছে তাঁরা অসহায়।

তারেক রহমানের উদ্দেশে তাঁরা বলেন, আপনার নাম ব্যবহার করে, আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার বার্তা ছড়িয়ে যা ইচ্ছে তাই করা হচ্ছে। এটা বিএনপির পাশাপাশি প্রত্যেক অঙ্গসংগঠনেও একই অবস্থা। তাদের খবরদারিতে তৃণমূল অসহায়। বরগুনার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, কমিটি গঠনে কোটি টাকার লেনদেনের সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় নেতা।

সব জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে ছিল– এই সরকারের অধীনে কোনোমতেই নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। কোনো ছলচাতুরীতে পড়া যাবে না। আন্দোলনকেই প্রাধান্য দিতে হবে। সেটাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এখনই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ