সিরাজগঞ্জ ১-৩৯ বছর পর আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনটি আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু ২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের মধ্যদিয়ে ৩৯ বছর পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ শুরু করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭২। যার মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৫ জন নারী ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন ভোটারও রয়েছেন। আসনটিতে ১৯৮৮ সালের ৩রা মার্চের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন। তাছাড়া ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে বড় ছেলে মোহাম্মদ সেলিম এবং ২০০৮, ২০২০ সালের উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালে মোহাম্মদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জয় লাভ করেন।
আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। দলটি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছে। আর ৩৯ বছর পর আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত। এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছিলেন। সে হিসাবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে। এর আগে থেকে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিন নেতা। তারা হলেন- জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা। আসনটিতে জামায়াতের সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসেবে সভা ও সমাবেশ করেছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহীনুর আলম। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন থেকে কাজিপুর উপজেলা সভাপতি হাফেজ জাফর আহমদকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আব্দুল মজিদ মিনু। তার মৃত্যুর পর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা হাল ধরেন। কিন্তু ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী মোহাম্মদ নাসিমের বিপরীতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। তবে আসনটিতে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য ও তাদের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মহড়ায় নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি তিনি। পরে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে বগুড়া শহরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন কনকচাঁপা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন তিনি।
রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে কথা হয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার শৈশব কেটেছে কাজিপুরের মাটিতে। ওই মাটিতেই মিশে আছে আমার অনেক স্মৃতি। আমার পৈতৃক বাড়িটি অনেক আগেই যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি কাজিপুরের প্রতিটি বাড়িই আমার নিজের বাড়ি। তিনি বলেন, আগে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ায় কাজিপুরের চারদিক ঘেরাও ছিল। আমি গানের মানুষ। তবুও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের সুখ ও দুঃখের কথা শুনেছি। তবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর কাজিপুরের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। নির্মূল হয়েছে দীর্ঘদিনের আওয়ামী দুঃশাসন, জুলুম ও নির্যাতন। দল এবার মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে তার প্রত্যাশা।
উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য ছিল। তাদের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মহড়াসহ নানা বাধায় নির্বাচনী প্রচারণা করেছি। নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকিতে দলের হাল ছাড়িনি। দলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করলে আমি মনোনয়ন পাবো ইনশাআল্লাহ্। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। এ কারণে বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কারাভোগ করেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইছেন এবার আমায় মনোনয়ন দেয়া হোক। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ্। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহীনুর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে একজন সমর্থকও নির্যাতনের বাইরে ছিল না। আমরা সরকারের চাপের মধ্যেও গঠনমূলক রাজনীতি করেছি। পালন করেছি অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি। জনসভার কোনো সুযোগ ছিল না। আমাদের অফিসও খুলতে পারিনি। কিন্তু ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর আমরা চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারছি। আগামী নির্বাচন ঘিরে নিয়মিতভাবে গণসংযোগ করছি। এতে জনগণের বেশ সাড়া মিলছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ