সিরাজগঞ্জ-৩: বিএনপির ঘাঁটিতে প্রভাব বেড়েছে জামায়াতের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ-৩: বিএনপির ঘাঁটিতে প্রভাব বেড়েছে জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ৫:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ৫:২১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে একটি সিরাজগঞ্জ-৩। এটি রায়গঞ্জ ও তাড়াশ–এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। অনেক আগে থেকেই এই আসনটিতে বিএনপির আধিপত্য বিস্তার ছিল। এ আসনে একটানা চারবার বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাই এ আসনটিকে অনেকটা ঝামেলামুক্ত মনে করে বিএনপি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬। ২ লাখ ২০ হাজার ৭৮৯ পুরুষ, ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৭০ নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন ৭ জন। বর্তমানে এ আসনটিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কিছুটা বেসামাল বিএনপি। এ আসন থেকে বিএনপির ১৭ জন নেতা-কর্মী বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি বিএনপির কিছু মনোনয়নপ্রত্যাশী। সে জন্য মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারা বিভিন্নভাবে আন্দোলন করছেন। তাই বিএনপি সমৃদ্ধ ভোটব্যাংক থাকলেও ঐক্যের ঘাটতি কাল হতে পারে দলটির। তবে এ আসনে বিগত দিনের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট ও জনপ্রিয়তা দুটোই বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।

তাড়াশ উপজেলার বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে দেখি আমার ভোট হয়ে গেছে। আবার শুনছি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ভোট হবে, কিন্তু ভোটের তেমন কোনো উৎসব ও আমেজ এখনো এলাকায় শুরু হয়নি। কিছুই বোঝা যাচ্ছে না কী হবে। যদি নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রগুলোতে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।’

রায়গঞ্জ উপজেলার ভোটার মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ভোট নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অবশ্যই যাব। যদি দেখি সবকিছু এলোমেলো, ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নেই, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে আর ভোটকেন্দ্রে যাব না।’

রায়গঞ্জ উপজেলার আরেক ভোটার লোকমান হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, ভোটের পরিবেশ ও ভোটারদের জীবনমান রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরার মধ্যে আনতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োজিত রাখতে হবে। দরকার হলে সেনাবাহিনীকে কিছু ক্ষমতা দিতে হবে। সৎ যোগ্য প্রিসাইডিং অফিসার দ্বারা ভোট নিতে হবে।’

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সাবেক রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি আইনুল হক। বিএনপির প্রার্থী আইনুল হক বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সামনের সারি থেকে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। অনেক রাজনৈতিক মামলায় অন্তত ছয়বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তবু জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি। নিঃস্বার্থভাবে দলের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছি। তাই দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আশা করছি, আমার আসনের ভোটার আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর আমি ভোটারদের দ্বারে যাচ্ছি। তাদের কথা শুনছি। তাদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। তাদের কাছে থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ আমাকে ভোট দেবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দুই উপজেলায় তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। জনগণ যদি আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে আর বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে আমার এলাকা থেকে সকল প্রকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূল করব। এলাকায় যারা বেকার রয়েছে কুটির শিল্পকারখানা গড়ে তুলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করব।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে দলীয় ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. শায়খ মাওলানা আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কাজ করে মানুষের জন্য। দল আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই সাংগঠনিক কার্যক্রম ও এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। জনসংযোগ করছি, উঠান বৈঠক করছি, মানুষ আমাদের পাশে আছে। মসজিদ-মাদরাসা ও পাড়া-মহল্লায় সমবেত হয়ে বৈঠক করছি ও ভোটারদের সমর্থন চাইছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাই জনগণের সেবা করার লক্ষ্যে আমরা দিনরাত এক করে তাদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। আশা করছি, ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ নির্বাচনে জনগণ যদি আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে, তাহলে এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করব। আমার এলাকায় রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ ও নাজুক অবস্থা, সেগুলোর উন্নয়ন করব। যেহেতু আমি একজন শিক্ষানুরাগী তাই যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। এ ছাড়া নারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করব। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য দাবি করছি।’

এ আসটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে দিলশানা পারুল নামে একজনকে মনোনয়ন দিলেও এখনো তাকে ভোটের মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি এলাকার ভোটারও সেই প্রার্থীকে তেমন একটা চেনেন না। এখন পর্যন্ত ভোটের প্রচারে তাকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক নেতারা গত কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিলেও আসন্ন নির্বাচনে তাদের কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ