সিরাজগঞ্জ ৫-মাঠে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩ জনসহ ৭ সম্ভাব্য প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বাবু মির্জা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ আনাগোনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মিসভা সহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজ দলের কর্মী এবং ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন। তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। এ ছাড়া, অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৫ আসন চৌহালী, এনায়েতপুর ও বেলকুচি নিয়ে গঠিত। মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৩৮২ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৪২৯ জন।
এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। সে সময় বেশ বড়সড় সমাবেশ করেন। এতে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। যা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেই থেকে তিনি এলাকায় নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মিসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো কর্মিসভা ও পথসভায় নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করছেন। দলের ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, আমি দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, তাদের নিয়ে সব সময়ই দলের পক্ষে কাজ করেছি। তাই দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ্। বিএনপি’র অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর (অব.) মনজুর কাদের ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরে চৌহালী-এনায়েতপুরে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তিনি এনায়েতপুরের বৃহত্তম কাপড়ের হাট, সৈয়দপুর মডেল স্কুল, চৌহালী প্রতিষ্ঠা করেন। মেজর মনজুর কাদের কারিগরি কলেজ, সৌদিয়া চাঁদপুর গ্রামে দীর্ঘ ২ কিলোমিটার ক্যানেল নির্মাণ করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫২ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লতিফ বিশ্বাসের কাছে হেরে যান। মেজর মনজুর কাদের বলেন, আমি যেহেতু এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়ন করেছি। আশা করি, হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে।
বিএনপি’র অপরপ্রার্থী কেন্দ্রীয় তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মাওলা খান বাবলু। তিনিও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। বাবলু বলেন, আমাকে যদি হাইকমান্ড নমিনেশন দেয় তাহলে চৌহালী নদীভাঙনসহ তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ করবো। জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী অধ্যাপক আলী আলম। তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারাও পাড়া-মহল্লায় নারী ভোটারদের নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মসজিদ-মাদ্রাসা স্কুলে তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। জামায়াতের প্রার্থী আলী আলম জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. মাহিন সরকার কেন্দ্রীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয়, তাহলে আমি সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বেলকুচিতে যেহেতু আমার বাড়ি। চৌহালী-এনায়েতপুরে মানুষের সঙ্গেও আমার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আশা করি, তরুণ ভোটাররা আকৃষ্ট হয়ে আমাকে ভোট দেবে। গণঅধিকারের অপর প্রার্থী মো. হাসমত আলী সরকার নির্বাচিত হলে নদীভাঙন কবলিত এলাকার মেহনতি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুফতি শেখ মো. নূরনবী হাতপাখা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ মনে করেন, নারী ও তরুণ ভোটারদের হাতেই এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
জনতার আওয়াজ/আ আ