সিলেট ৩বিএনপি’র মনোনয়নযুদ্ধ তুঙ্গে মাঠে ইসলামী দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসন। এরমধ্যে সদরের পর যে আসনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি সেটি হচ্ছে সিলেট-৩ আসন। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসন। এখানে রয়েছে বিএনপি’র শক্তিশালী ভোটব্যাংক। কিন্তু ভোট এখনো দ্বিধাবিভক্ত। একক প্রার্থী ঘোষণা না করা পর্যন্ত এ দ্বিধাবিভক্তি কমবে না বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ আসনে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন কে? এ নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। আগ্রহ বাড়ছে ভোটারের। কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন। মাঠ, ময়দান তারা চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালিক, বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এমএ সালাম, জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল, নগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি, এমএ হক পুত্র ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান ও যুক্তরাজ্যের নেতা ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই। আসনে বিএনপি’র টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে মল্লযুদ্ধ চলছে। কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই। সবাই যোগ্য। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মালিকের ‘সেক্রিফাইস’ বিশাল। পূর্বে তিনি সিলেট বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিএনপি’র জমানায় লন্ডনে যান। ওখান থেকে তিনি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। দেশে আসতে পারেননি। এবার এসে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। পাচ্ছেন সাড়াও। দেড় যুগ ধরে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম। দলের দুর্দিনে দেশে ফিরে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের প্রাথমিক টিকিট পেলেও পরে শফি আহমদ চৌধুরীকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তিন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সালামের রয়েছে সুসম্পর্ক। তারেক রহমানের হয়ে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, আছেনও। তাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা এলাকায়। বিভাগীয় শহরের জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। পরিচিত মুখ। দুর্দিনে ছিলেন মানুষের পাশে। এখন সিলেটের নীতি-নির্ধারক হয়ে নানাভাবে মানুষের সঙ্গেই জড়িত রয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সিলেটের শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি পরিশ্রম করেছেন। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তার পক্ষে অবিচল। তিনি সিলেটের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। তৃণমূলের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন কাইয়ূম চৌধুরী। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটের নির্মাণ কাজের ধীরগতি নিয়ে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ। আন্দোলন সংগ্রামে জীবনবাজি রেখে কাজ করেছেন। মামলায় জর্জরিত হয়ে একাধিকবার কারাবাস করেছেন। আওয়ামী লীগ জমানায় জেলই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এখন ভোটের মাঠে তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলছেন। যেদিকে যাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষও তার পক্ষে হাঁটছে। ইতিমধ্যে জামাল কয়েকটি শোডাউন দিয়ে মানুষের নজর কেড়েছেন। এমএ হক পুত্র ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান নতুন মুখ। তবে পিতার সূত্র ধরে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। যুক্তরাজ্যের নেতা ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই’র পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় তার অনুসারীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী ভোটে সক্রিয় থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী লোকমান আহমদ একাই চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। ফলে দক্ষিণ সুরমায় তার ভোটব্যাংক রয়েছে। এখন ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে তিনিসহ তার কর্মীবাহিনী ঘরে ঘরে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিতে ব্যস্ত রয়েছেন। এ ছাড়া এ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. দিলওয়ার হোসেন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিন উপজেলায়ই তার বিশাল কর্মীবাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এ আসনে জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা লুৎফুর রহমান কাসেমী ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা রেজাউল হক চৌধুরী রাজু। তারাও ভোটের মাঠে সক্রিয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ