সিলেটে বন্ধ হচ্ছে না নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:২৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটে বন্ধ হচ্ছে না নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১০, ২০২৫ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১০, ২০২৫ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলং নদী থেকে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিদিন রাতের আঁধারে শত শত কার্গো দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে পরিবেশ উপদেষ্টা একাধিকবার নির্দেশ দিলেও তা মানছে না স্থানীয় প্রশাসন। এতে পরিবেশের ওপর মারাত্মকভাবে বিরূপ প্রভাব পড়ে জীববৈচিত্র চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের গোয়াইনঘাট থানা আহ্বায়ক আজমল হোসেন।

তিনি বলেন, জাফলং এর নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে গত এক বছর ধরে প্রতিবাদ করে আসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।কিন্তু দুর্বৃত্তরা এতই শক্তিশালী যে, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে।এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, স্থানীয় জেলা প্রশাসক,থানা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শুরু করে সবার কাছে একাধিক বার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও অদ্যবদি বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

লিখিত অভিযোগে আজমল হোসেন জানান, জীব ও বৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষার্থে এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং জনগণ একত্রিত হয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সিলেটে একাধিক বার সংবাদিক সম্মেলনসহ প্রশাসনের সকল স্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।

প্রতিদিন এই গোয়াইনঘাট নদী থেকে কোটি কোট টাকার বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়। আর এর বিনিময়ে জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার সবাই ভাগ পান। গোয়াইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের দোসর কামরুল ইসলাম চৌধুরী, স্টেলিন তারিয়াং, জিয়ারত খান, জাহিদ খান, সুহেল আজিজ, সাত্তার, বুলবুল, বদরুল ও খায়রুলসহ শতাধিক বিএনপি নামধারী নেতারা এই অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণে প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্বৃত্তরা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তার পরিবারের লোকজনকে হয়রানি করছে। কিছু দিন আগে দুই পরিবেশ বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান ও বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির গোয়াইনঘাট এলাকায় পরিদর্শন করলে দুর্বৃত্তরা তাদের গাড়ি বহরে বাধা দেন এবং তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় দুই উপদেষ্টা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে আসতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও জড়িত ব্যক্তিদের এখন ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কেবল মাত্র এলাকার নিরীহ মানুষদের ধরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বন্ধের দাবিতে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেবেন নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনকারীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ