সিলেটে যে ঘটনা নাড়া দেয় মানুষকে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ১, ২০২৫ ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ১, ২০২৫ ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২০২৪ সাল। সিলেটবাসীর জন্যও একটি আলোচিত বছর। ঘটনাবহুল বছর। এই বছরে উত্তাল ছিল সিলেট। রাজপথে বাঁচা-মরার লড়াই। দিনটি ছিল ৪ঠা আগস্ট। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তাল রাজপথ। মানুষ বাড়ছে। পিছু হটছে পুলিশ। কোনোভাবেই কিছু হচ্ছে না। ঘোষণা দিয়ে সকালে কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেন বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজপথ দখলে রাখবেই- এমন পণ তাদের। এই অবস্থায় সকালেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। মুর্হুমুর্হু গুলি। টিয়ারশেলের গন্ধ। টিকে থাকাই দায়। কোর্ট পয়েন্ট তখন রণক্ষেত্র। সংঘর্ষ চলছে। পুলিশের গুলির মুখে বেশিক্ষণ টিকলেন না নেতাকর্মীরা। পিছু হটলেও রাজপথের অবস্থান ছাড়েননি। কেউ জিন্দাবাজার, কেউ কেউ বন্দরবাজার এলাকায় অবস্থান নেন। এসময় ঘোষণা দিয়ে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে নামেন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। হাতে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। কারও হাত খালি নেই। ন্যূনতম পক্ষে একটি বাঁশও রয়েছে। খালি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী নেই বললেই চলে। নেতারা এলেন। বক্তৃতা করলেন। রাজপথে আওয়ামী লীগ ছাড়া কাউকেই থাকতে হবে না। এমন ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নগরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওইদিন সিলেটের রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অনেক অস্ত্রই ছিল অচেনা। ভারী অস্ত্র বলা চলে। একে ফোরটি সেভেনের মতো অস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছিলেন তারা। এত অস্ত্র দেখে বিরোধী মতের নেতাকর্মী তো দূরের কথা সাধারণ মানুষ ও সংবাদকর্মীরাও পিছু হটেন। মধুবনের ছাদ কিংবা বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থান ছিল নেতাকর্মীদের। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন ফটো সাংবাদিকরা। আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন হলেও তারা প্রকাশ্যে ছবি তুলতে পারছিলেন না। ফটো সাংবাদিকরা জানিয়েছেন- এক নলা, দু’নলা বন্দুক তো ছিলই তার পাশাপাশি পিস্তল, কাটা রাইফেল, রিভলবার হাতে হাতে ছিল। কয়েকটি একে ফোরটি সেভেনের মতো অস্ত্র ছিল। লন্ডনের এক নেতার হাতে সবচেয়ে আধুনিক মারণাস্ত্র। অস্ত্রসহ ক্যাডাররা মাঠে নামার পর পুলিশ কিছুটা পিছু হটে। ফলে সম্মুখযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় অস্ত্রবাজ ক্যাডাররা। এ দৃশ্যে গোটা নগরেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তখন দুপুর। বিএনপিসহ ছাত্র-জনতার বড় অংশের অবস্থান ছিল বন্দরবাজার এলাকা। আরেকটি বড় অংশ ছিল জিন্দাবাজারে। এই অবস্থায় অস্ত্রবাজ ক্যাডাররা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামে। বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার দু’জায়গায়ই নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে চারদিক। দোকানপাট বন্ধ। সড়কে যানবাহনও নেই। মাঠে কেবল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। গুলির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও পিছু হটছিল না বিরোধী নেতারা। নগরের জিন্দাবাজার। বিরোধী দলের কর্মীদের সংখ্যা হবে কয়েকশ’। সশস্ত্র অস্ত্রবাজরা প্রথমে তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর গুলি ছুড়ে। গুলিতে মাটিতে লুটে পড়েন অনেকেই। রক্তাক্ত হতে দেখা যায়। উদ্ধার করে করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। চলে লড়াই। এমন দৃশ্য বন্দরবাজার এলাকারও। সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে বাসাবাড়িতে থাকা মানুষজনও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এ ঘটনার পর অস্ত্রবাজদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল। গণমাধ্যমেও প্রচার হয়। কিন্তু এখনো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা অস্ত্রবাজদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের রাজপথে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তার মতে; সিলেট হচ্ছে সম্প্রতির শহর। এই শহরে রাজনৈতিক সম্প্রতি দেশের মধ্যে অনন্য। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছুড়ার ঘটনা সিলেটের সম্প্রীতিতে আঘাত করা হয়েছে। এতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীর মতে; পুণ্যভূমি সিলেটে অতীতে এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটেনি। এত অস্ত্রও দেখেনি সিলেটের মানুষ। যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল তারাই গুলি ছুড়েছে, মানুষ হত্যা করেছে। এর বিচার দেশের মানুষ করেছে, আরও করবে।
ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২০২৪ সাল। সিলেটবাসীর জন্যও একটি আলোচিত বছর। ঘটনাবহুল বছর। এই বছরে উত্তাল ছিল সিলেট। রাজপথে বাঁচা-মরার লড়াই। দিনটি ছিল ৪ঠা আগস্ট। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তাল রাজপথ। মানুষ বাড়ছে। পিছু হটছে পুলিশ। কোনোভাবেই কিছু হচ্ছে না। ঘোষণা দিয়ে সকালে কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেন বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজপথ দখলে রাখবেই- এমন পণ তাদের। এই অবস্থায় সকালেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। মুর্হুমুর্হু গুলি। টিয়ারশেলের গন্ধ। টিকে থাকাই দায়। কোর্ট পয়েন্ট তখন রণক্ষেত্র। সংঘর্ষ চলছে। পুলিশের গুলির মুখে বেশিক্ষণ টিকলেন না নেতাকর্মীরা। পিছু হটলেও রাজপথের অবস্থান ছাড়েননি। কেউ জিন্দাবাজার, কেউ কেউ বন্দরবাজার এলাকায় অবস্থান নেন। এসময় ঘোষণা দিয়ে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে নামেন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। হাতে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। কারও হাত খালি নেই। ন্যূনতম পক্ষে একটি বাঁশও রয়েছে। খালি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী নেই বললেই চলে। নেতারা এলেন। বক্তৃতা করলেন। রাজপথে আওয়ামী লীগ ছাড়া কাউকেই থাকতে হবে না। এমন ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নগরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওইদিন সিলেটের রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অনেক অস্ত্রই ছিল অচেনা। ভারী অস্ত্র বলা চলে। একে ফোরটি সেভেনের মতো অস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছিলেন তারা। এত অস্ত্র দেখে বিরোধী মতের নেতাকর্মী তো দূরের কথা সাধারণ মানুষ ও সংবাদকর্মীরাও পিছু হটেন। মধুবনের ছাদ কিংবা বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থান ছিল নেতাকর্মীদের। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন ফটো সাংবাদিকরা। আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন হলেও তারা প্রকাশ্যে ছবি তুলতে পারছিলেন না। ফটো সাংবাদিকরা জানিয়েছেন- এক নলা, দু’নলা বন্দুক তো ছিলই তার পাশাপাশি পিস্তল, কাটা রাইফেল, রিভলবার হাতে হাতে ছিল। কয়েকটি একে ফোরটি সেভেনের মতো অস্ত্র ছিল। লন্ডনের এক নেতার হাতে সবচেয়ে আধুনিক মারণাস্ত্র। অস্ত্রসহ ক্যাডাররা মাঠে নামার পর পুলিশ কিছুটা পিছু হটে। ফলে সম্মুখযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় অস্ত্রবাজ ক্যাডাররা। এ দৃশ্যে গোটা নগরেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তখন দুপুর। বিএনপিসহ ছাত্র-জনতার বড় অংশের অবস্থান ছিল বন্দরবাজার এলাকা। আরেকটি বড় অংশ ছিল জিন্দাবাজারে। এই অবস্থায় অস্ত্রবাজ ক্যাডাররা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামে। বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার দু’জায়গায়ই নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে চারদিক। দোকানপাট বন্ধ। সড়কে যানবাহনও নেই। মাঠে কেবল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। গুলির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও পিছু হটছিল না বিরোধী নেতারা। নগরের জিন্দাবাজার। বিরোধী দলের কর্মীদের সংখ্যা হবে কয়েকশ’। সশস্ত্র অস্ত্রবাজরা প্রথমে তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর গুলি ছুড়ে। গুলিতে মাটিতে লুটে পড়েন অনেকেই। রক্তাক্ত হতে দেখা যায়। উদ্ধার করে করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। চলে লড়াই। এমন দৃশ্য বন্দরবাজার এলাকারও। সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে বাসাবাড়িতে থাকা মানুষজনও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এ ঘটনার পর অস্ত্রবাজদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল। গণমাধ্যমেও প্রচার হয়। কিন্তু এখনো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা অস্ত্রবাজদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের রাজপথে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তার মতে; সিলেট হচ্ছে সম্প্রতির শহর। এই শহরে রাজনৈতিক সম্প্রতি দেশের মধ্যে অনন্য। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছুড়ার ঘটনা সিলেটের সম্প্রীতিতে আঘাত করা হয়েছে। এতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীর মতে; পুণ্যভূমি সিলেটে অতীতে এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটেনি। এত অস্ত্রও দেখেনি সিলেটের মানুষ। যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল তারাই গুলি ছুড়েছে, মানুষ হত্যা করেছে। এর বিচার দেশের মানুষ করেছে, আরও করবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ