সুচিকিৎসার অভাবে আরেক ‘জুলাই যোদ্ধার’ মৃত্যু!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫ ১:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘদিন যন্ত্রণায় ভোগার পর মৃত্যুবরণ করলেন মো. আশিকুর রহমান হৃদয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ঝরে গেল এই তরুণ প্রাণ।
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, বিকেল চারটায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
হৃদয় ছিলেন বাউফল সদর ইউনিয়নের পশ্চিম যৌতা গ্রামের বাসিন্দা আনসার হাওলাদারের ছেলে। জীবিকার তাগিদে শ্রমিকের কাজ করতেন ঢাকায়। গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে পুলিশের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁর মাথায় তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়।
সেই সময় চলমান দমন-পীড়নের ভয়ে দীর্ঘদিন তিনি গোপনে চিকিৎসা নেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে, তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর মাথা থেকে দুটি গুলি অপসারণ করতে সক্ষম হন, তবে আরেকটি গুলি থেকে যায়। অবস্থার জটিলতা এবং ঝুঁকির কারণে সেটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এই গুলিই ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
হৃদয় বারবার অসুস্থ হয়ে পড়তেন—জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও যন্ত্রণায় দিন কাটত তাঁর। গত বুধবার আবারও জ্বর ওঠে। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন,
“ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। নিজের রিকশা আর একটা গরু বিক্রি করে যতটুকু পেরেছি করেছি। ডাক্তাররা দুইটা গুলি বের করলেও একটা মাথার ভেতরে রয়ে গিয়েছিল। যদি কেউ বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করত, আমার ছেলে হয়তো বেঁচে যেত।”
হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন,
“অনেক দিন ধরেই কষ্ট পাচ্ছিল হৃদয়। মাথার ভেতরে গুলি থাকার কারণে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হতো, প্রায়ই জ্বর আসত। কেউ এগিয়ে আসেনি ওর উন্নত চিকিৎসার জন্য। এই অবহেলাতেই সে মারা গেল।
সূত্রঃ ডেইলি ক্যাম্পাস
জনতার আওয়াজ/আ আ