সুন্দরবনে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর কাছ থেকে ১৩ মৌয়ালী উদ্ধার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুন্দরবনে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর কাছ থেকে ১৩ মৌয়ালী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ণ

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

সুন্দরবনে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর কবল থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ১৩ মৌয়ালীকে উদ্ধার করা হয়। গত (৭ মে) সুন্দরবনের শিবসা নদীর পূর্বপাড়ের কুমড়াকাটি চর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী মৌয়ালদের অভিযোগ, গত ৭ মে খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালী স্টেশন অফিস থেকে বৈধ পাশ-পারমিট নিয়ে দুইটি নৌকায় করে তারা সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে যান। হারুন গাজীর নেতৃত্বে ৬ জন এবং মহানন্দ মন্ডলের নেতৃত্বে ৭ জনসহ মোট ১৩ জন মৌয়ালী সুন্দরবনের শিবসা নদীর পূর্বপাড়ের কুমড়াকাটি চর এলাকায় পৌঁছালে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।

এ সময় বনদস্যুরা মহানন্দ মন্ডলের নৌকা থেকে নগদ ২০ হাজার ৭শ টাকা এবং হারুন গাজীর নৌকা থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে মুক্তিপণের দাবিতে তাদের দুই দিন জিম্মি করে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩৭ হাজার টাকা পাঠালে শনিবার বিকেলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মৌয়ালরা জানান, বনদস্যুরা শুধু নগদ অর্থই নয়, দুই নৌকায় থাকা প্রায় ১৫ দিনের বাজারসামগ্রী, চাল-ডাল-তেলসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকার মালামালও নিয়ে যায়। ফলে মধু আহরণ না করেই তারা বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

জিম্মিদশা থেকে রোববার ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৌয়ালরা বলেন, সুন্দরবনে যেতে পাশ-পারমিট, বাজার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার অধিকাংশই ধারদেনা করে জোগাড় করা হয়েছিল । এখন তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মুক্তির আগে বনদস্যুরা তাদের বলে যায়-ভবিষ্যতে সুন্দরবনে প্রবেশের আগে স্থানীয় হাসান মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করে যেতে হবে, না হলে বনে কাজ করা যাবে না।

এ ঘটনায় মৌয়াল সরদার হারুন গাজী বাদী হয়ে আমাদী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাসান মেম্বারসহ দুইজনের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে বনদস্যু বাহিনীর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ শাহ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি, কিন্তু ঘটনাটি সুন্দরবনের দাকোপ থানার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি উদ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ