সৈয়দপুরে রেলের ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি দখল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সৈয়দপুরে রেলের ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেশের সর্ববৃহৎ রেল কারখানা অবস্থিত। অথচ এখানেই রেলের ভূসম্পত্তি অবৈধভাবে দখল প্রক্রিয়া অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে। দখল ঠেকাতে ৪ বছর আগে জমা দেওয়া রেল মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির ২৪ দফা সুপারিশমালা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৯৮৫ সালে এক চুক্তির অধীনে ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি সৈয়দপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তির অধীনে জমির মালিকানা রেলের থাকার কথা।

পৌর কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে থাকা হাট-বাজার, দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করে আহরিত রাজস্বের একটি অংশ রেলকে দেওয়ার কথা।

কিন্তু পৌরসভা চুক্তির ভিন্ন অর্থ করে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে, হস্তান্তরিত ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমির মালিকানা তাদের। এরপর থেকেই তাদের প্রশ্রয়ে শুরু হয় সীমাহীন দখলদারীর মহোৎসব।

পৌর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হাট-বাজার থেকে প্রাপ্ত আয়ের অংশ চুক্তি অনুযায়ী রেলকে দেয়নি।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হস্তান্তর করা জমির সীমানা সুনির্দিষ্ট করে চিহ্নিত না করায়, পৌর কর্তৃপক্ষ এর দ্বিগুণ এলাকায় দখলদারত্ব বজায় রেখেছে। রেল কর্তৃপক্ষ কয়েকবার জমি চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিলেও পৌর কর্তৃপক্ষ সেসব পদক্ষেপ নস্যাৎ করে দেয়।

পরে ২০২০ সালে স্থানীয় সাংবাদিক মোতালেব হোসেন রেলের জমি দখল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

দুদক অভিযোগটির বিষয়ে রেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটি ২০২১ সালের মধ্যভাগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা দুর্নীতিগ্রস্ত রেল কর্মকর্তা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তায় শুধু সৈয়দপুরে ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের ৩৫০ একর ভূমি দখল করেছে।

একইসঙ্গে তদন্ত কমিটি কয়েকজন ভূমিদস্যুসহ তাদের সহায়তাকারী রেল কর্মকর্তা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যদের চিহ্নিত করে জরুরিভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ভূসম্পত্তি রক্ষায় বাস্তবসম্মত ২৪ দফা সুপারিশ প্রদান করে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য ২ হাজার ৪৮৮টি রেল কোয়ার্টারের ৭০ শতাংশ দখল হয়ে গেছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ