স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০২৪ ২:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০২৪ ৩:০০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে নিরানন্দ ও বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজান প্রায় শেষ পর্যায়ে, আর দুই তিন দিন পর উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ডামি নির্বাচনের ‘বাকশাল টু’ সরকারের ভয়াবহ দু:শাসনে পড়ে এ পবিত্র রমজানেও নিদারুণ কষ্টে জীবন যাপন করছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, গ্যাস—বিদ্যুৎ—পানি সংকট তো আছেই। এছাড়াও অবৈধ সরকারের লুটপাটের অর্থনীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ ক্রমসম্প্রসারিত হচ্ছে।

রবিবার (৭ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য অনেক মানুষকে জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে। সভা—সমাবেশ—মিছিল করার অধিকার আওয়ামী লীগ এখন এককভাবে ভোগ করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এরা কলুষিত করে ক্ষমতা দখলে রেখেছে। আওয়ামী সন্ত্রাস মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। জনগণের ওপর প্রভুত্বকামী জুলুমবাজ সরকার পাড়া—মহল্লা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দেশব্যাপী হিংসার মন্ত্রণাদাতা ও শান্তির শত্রু। এরা গণতন্ত্রের মূল নীতিকে সমাধিস্থ করে এক সর্বগ্রাসী অত্যাচারী রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মনে ঈদের কোন আনন্দ নেই। বিশেষ করে মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে নিরানন্দ ও বেদনাদায়ক।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য হচ্ছে ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্রের লাশ ফেলে দেয়া। অত্যাচার, লুটতরাজ সর্বক্ষেত্রেই বিদ্যমান। এরা ক্ষমতাসীন হয়ে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, খবরদারী, অত্যাচার, উৎপীড়ন, খুন, গুম, লুণ্ঠন, দুঃশাসন চালিয়ে আসছে। জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ধরে রেখে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী গত প্রায় ১৬ বছরে ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসনের নানামূখী ফরম্যাট পরিবর্তনের মাধ্যমে দেড় লাখের বেশি হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানসহ প্রায় ৫০ লাখের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করেছে। রাজনৈতিক আচরণের রীতি ও শালীনতাকে উপেক্ষা করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাবেক চারবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়েছে, এখনও তিনি মুক্ত নন। যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তাঁকে চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই সরকারের আমলে বিচারের রায় ছিল ফরমায়েশি ও আক্রোশমূলক। গণতন্ত্র—ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনের অপরাধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এখনো কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের দেশ। ডামি নির্বাচনের পর অনেককে জামিন দিলেও আবারও নতুন নতুন মামলায় কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন, গুপ্তহত্যার শিকার করা হয়েছে। ছয় বছরের শিশু থেকে মায়ের পেটের বাচ্চাকেও গুলি করা হয়েছে। কবরে শায়িত ব্যক্তি, কোলের বাচ্চা, বিদেশে অবস্থানকারী মানুষ, কারাবন্দি লোককে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ইত্যাদি গায়েবি মামলায় জড়িত করার অগণিত উদাহরণ রয়েছে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কেউই এই গায়েবি মামলা ও সরকারি নির্যাতন—নিপীড়ণ থেকে রেহাই পায়নি। দেশ যেন এখন কাঁটাতারের বেড়াঘেরা এক অবরুদ্ধ জনপদ।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় জর্জরিত বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় সকল নেতাকর্মী। কারও কারও বিরুদ্ধে ৪শ থেকে ৫শ মামলাও রয়েছে। একদিকে মামলার চাপ আরেক দিকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ সব হারিয়ে অনেকটা নি:স্ব হয়ে পড়েছে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এখনও যারা কারবান্দি রয়েছেন এমন নেতাকর্মীর সংখ্যাও কম নয়। কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে এবারও ঈদ করতে হচ্ছে দলটির অজস্র নেতাকর্মীকে। অবৈধ ও ডামি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজনৈতিক মামলায় বন্দি এসব নেতাকর্মী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে হামলা করার পর থেকে গণতন্ত্রের প্রতি ঈর্ষাতুর ও বিদ্বিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে সারাদেশে গণহারে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ওই সময় বিএনপির মহাসচিবসহ এবং অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের পর বেশির ভাগের জামিনে মুক্তি মিললেও পরে আবারও নতুন মামলায় অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়। ডামি নির্বাচন করতে একদিকে চলে গ্রেফতার নির্যাতন আরেকদিকে শুরু হয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলার সাজার রায়। প্রায় একশ মামলায় কমপক্ষে ১৮শ নেতাকর্মীকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়। এখনও কারাবন্দী রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব—উন—নবী খান সোহেল, লায়ন আসলাম চৌধুরি, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

“এছাড়াও ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর—৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির, ছাত্রদলের সাবেক সহ—সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চসহ ৫১ জন, চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী নয়ন, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনসহ হাজারো নেতাকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদি লুনা, সাহিদা রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ