স্বাধীনতার পর নির্বাচিতরা সর্বস্তরে বাংলা বাস্তবায়নে ব্যর্থ : জি এম কাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:২৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর নির্বাচিতরা সর্বস্তরে বাংলা বাস্তবায়নে ব্যর্থ : জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩ ১১:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩ ১১:১৬ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সংবিধানে লেখা আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা দীর্ঘ সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতার পর যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সর্বস্তরে বাংলাকে বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দলের চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এসেছে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় আমরা একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল মুক্তির জন্য। আমরা স্বাধীন হয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি। দেশের মানুষ বৈষম্য ও কুশাসনের বিরুদ্ধে মুক্তি পায় না।

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরিফা কাদের এমপির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় কাদের বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর আর জনগণের দিকে তাকায় না। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে, নেতারা ক্ষমতার বাইরে থাকতে এক কথা বলেন আবার ক্ষমতায় গিয়ে আরেক কথা বলেন। দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। যারা পল্লীবন্ধুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছেন, তারা সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র ও সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলে এক সরকার থেকে অন্য সরকার আসছে কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে কারও উদ্যোগ নেই। প্রজাতন্ত্র মানেই প্রজাদের তন্ত্র। প্রজারা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন, প্রতিনিধিরা প্রজাদের ইচ্ছেমতো দেশ চালাবেন। তাই সাধারণ মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা অধিকার নয়, এটা সাধারণ মানুষের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ইচ্ছেমতো দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে আবার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিবর্তন করবেন দেশের মানুষ। এটাই গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, দেশে কী গণতন্ত্র আছে? সাধারণ মানুষ কী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন? প্রতিনিধিরা কী জনগণের কথা শুনতে চায়? এখন কথা বলতে চাইলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার ব্যবস্থা হয়। সরকারের সমালোচনা করলে বলা হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা আর রাষ্ট্রদ্রোহিতা এক কথা নয়। রাষ্ট্র এখন সরকারদলীয় হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উন্নয়নে একটি বিল্ডিং হয়েছে, তারা কি কাজ করছে তা আমরা জানতে পারছি না। এই সরকারের কৃতিত্ব শুধু বিল্ডিং আর কমিশন। জনগণের কথা বলার অধিকার নেই। গণমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। একতরফাভাবে খবর দেওয়া হচ্ছে। দেশে ডলার সংকট চলছে। কাঁচামালের অভাবে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ সংসার চালাতে পারছে না। একটি শ্রেণি দেশের ৯০ ভাগ সম্পদ লুটপাট করছে। আর মাত্র ১০ ভাগ সম্পদের ভোগ করছেন দেশের বেশির ভাগ মানুষ। দেশের মানুষ অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন বাস্তবতায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে না খেয়ে মরতে হবে।

প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলেছি। সপ্তাহে এক দিন নিত্যপণ্য রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে বিতরণ করে দেশের মানুষ বাঁচাতে হবে। নদী, ফুটপাত ও রাস্তায় ইজারার নামে চাঁদাবাজি চলছে। এখন ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে একটি গোষ্ঠী। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করছে। সরকার এই সংবাদ গোপন করছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেনা খান পন্নি, নাজনিন সুলতানা, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল, সালমা হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ