স্বৈরতন্ত্রের পথ না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রসহ সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বৈরতন্ত্রের পথ না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রসহ সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ৮, ২০২৩ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

 

সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভস- এ জন ড্যালিনোয়িচের নিবন্ধ
ডেস্ক নিউজ
যতদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার তার বর্তমান রাজনৈতিক পথ ধরে হাঁটবে ততদিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সমমনা দেশগুলো বাংলাদেশকে খুব কমই ছাড় দিবে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সম্পর্ক বাড়াতে চায় এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় তাহলে তাদেরকে স্বৈরতন্ত্রের পথ ছাড়তে হবে। নাহলে বাংলাদেশ পশ্চিমে একটি একঘরে দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াশিংটন সফর নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী এই নিবন্ধটি লিখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি মিশন প্রধান, কূটনীতিক এবং ‘সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভস-এরএডিটর এ্যাট লার্জ জন ড্যানিলোয়িচ। শনিবার ‘সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভস-এর ওয়েব ভার্সনে এই বিশ্লেষণটি প্রকাশিত হয়।

পাঠকদের জন্য বিশ্লেষণটির অনুবাদ নীচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরকে পর্যালোচনা করলে বেশ কিছু বিষয় সামনে চলে আসে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ম্যালপাসের হাতে শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর বাঁধাই করা একটি ফ্রেম হাতে তুলে দেবার কথা বলা যেতে পারে। একদশক আগে দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবার এই ছবির উপহারটা বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের জন্য সুখকর বলা যায়না। আরেক ছবিতে আমরা দেখতে পাই যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে বেশী করে বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের আহবান জানিয়েছেন তিনি। সফরে শেষ দিকে দেখা গেল বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তারা দ্বিপাক্ষিক পার্টনারশীপ ডায়লগে বসেছেন। ২০১৪ সালে এই ডায়লাগের শুরু হয়। এতে কোনো সন্দেহ নাই যে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই সফর এবং ছবিগুলোকে সরকারের সাফল্য বলে প্রচার করবে এবং একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে খুব গুরুত্ব দেয় এটা বলে বেড়াবে।

তবে সফরে যে বিষয়টি হাসিনার সমর্থকদের মাঝে কম গুরুত্ব পাবে সেটি হলে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যখন বিশ্বব্যাংক হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠান চলছিলো ঠিক তখনি আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিরোধীদলের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি করে। ওয়াশিংটনের রাজপথে এই যে বিশৃঙ্খলা এটা ভালো কোনো কাজ নয়। বরং এটি বাংলাদেশের ব্যর্থ রাজনীতির চিত্রটা দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সীমানায় উন্মুক্ত হয়েছে। একটা ছবি নিয়ে খুব করে বলা হচ্ছে যে শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। দুই জনের মধ্যে কোনো সাক্ষাত হয়নি। যদিও হাসিনা এবং তার সমর্থকরা এটা বলে বেড়াবে যে ওয়াশিংটনে এটা কোনো সরকারি সফর ছিলোনা তবে এটা সত্য যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাক্ষাত পেলে সে সুযোগ হাতছাড়া করতেন না শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে সম্পর্ক যদি ভালোই হতো তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বাংলাদেশের এ ধরনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিতো। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেটা ভাবছেন সেটা হলো- বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এর আগে যে বৈঠকগুলো হয়েছে সেখানে তারা ইতিমধ্যেই মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও এনিয়ে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন। শেষ কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মূলব্যান সময় নষ্ট করলে তাতে খুব কমই স্বার্থ হাসিল হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগের সফরগুলোতে কতটা লাভ হয়েছে সে হিসেব কষেই হোয়াইট হাউস তাকে কোনো লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়নি। এবিষয়ে তারা সঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।

বিভিন্ন দেশের অভিজাত শ্রেণীর মতো, বাংলাদেশের গলাবাজরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের চোখে বাংলাদেশের গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ, সুদানে সংঘাত, এগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত। এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে বাইডেন এবং তার কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে হাসিনার সফরকে পাত্তাই দেয়নি। সামনের দিনগুলোতে দেখা যাবে, ঢাকার পন্ডিতেরা হাসিনার জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সফরকে হয় আন্তর্জাতিক সমর্থন হিসেবে প্রচার করবে নতুবা সরকারের সমালোচনা করবে। সমালোচকরা তাদের সমালোচনার প্রমাণ হিসাবে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সূত্রের বিবৃতিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবে। তবে যে সত্য খবরটি তারা প্রচার করবেনা সেটি হলো-বাংলাদেশ এবং তার প্রধানমন্ত্রীর যে গুরুত্ব তারা দিচ্ছে, সেটি আর নেই।

বাংলাদেশে যারা একটি ভালো ভবিষ্যতের কথা ভাবছেন তাদের জন্য উপরের আলোচিত ঘটনাগুলোকে যে বার্তাটা দেয়া হচ্ছে সেটা খুবি সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন হাসিনা সরকার তার বর্তমান রাজনৈতিক পথ ধরে হাঁটবে ততদিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সমমনা দেশগুলো বাংলাদেশকে খুব কমই ছাড় দিবে। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সম্পর্ক বাড়াতে চায় এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় তাহলে তাদেরকে স্বৈরতন্ত্রের পথ ছাড়তে হবে। নাহলে বাংলাদেশ পশ্চিমে একটি একঘরে দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।এই বার্তাটা যত দ্রুত উপলব্দি করা যাবে তত দ্রুত বাংলাদেশ এবং তার শুভাকাংখীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

জাস্ট নিউজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ