স্বৈরাচার কিভাবে তাদের আপনজন হয়ে গেলেন প্রশ্ন গোটা জাতির: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নিন্দিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারত ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন দেশে যেতেও পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার গণতন্ত্র হত্যাকারী গুম, খুন করা একটি রাজনৈতিক দল যে রাজনৈতিক দল ভারতের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল, যে দলকে গোটা বিশ্ব বিদ্যাঙ্গুলি দেখিয়েছিল, যে ব্যক্তি সারা বিশ্বে নিন্দিত, যার কারনে এখনো ভারতে আশ্রয় নিয়ে পৃথিবীর অন্য কোন দেশে যেতে পারছে না। কোথাও ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে, অনেকেই তার আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে নাকচ করে দিয়েছে সেই ধরনের একজন স্বৈরাচার কিভাবে এত তাড়াতাড়ি তাদের আপনজন হয়ে গেলেন এটাই বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে গোটা জাতির কাছে।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (এ্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘পৃথিবীর ধোলানো যে গণআন্দোলনে শিশু বাচ্চারা জীবন দিয়েছে এটা তো দেশবাসী কখনো ভুলবে না। যারা গ্যাস চেম্বারের মত আয়না ঘর বানিয়ে মানুষকে অদৃশ্য করেছে কিংবা বছরের পর বছর আটকে রেখেছে, তাদের সাথে আঁতাত করা মানে শহীদদের রক্তের সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল আমরা গভীরভাবে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, একই সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধেও বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে মাঝে ঐক্যের মধ্যে যারা ফাটল সৃষ্টি করছে তারা মূলত পতিত স্বৈরশাসকের দোসর হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। কেউ কেউ বলে এক জালিম চলে গেছে আরেক জালিম আমরা আসতে দিব না কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলা হচ্ছে? বলছেন ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক করতে হবে, এতদিন আপনারা বলেননি কেন? আবার বলছেন যে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচারকে ক্ষমা করে দিবে, এই কথাগুলো তো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ইলিয়াস আলী বলেন, চৌধুরী আলম বলেন, আবরার বলেন কত ছাত্র জনতা রাজনীতিবিদ শ্রমিক, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, এদের শহীদি আত্মদানের সাথে এটা কি বেইমানী হবে না?
রিজভী বলেন, ‘এক ভয়ঙ্কর দানবীয় স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। পৃথিবী কাঁপানো শিশু-কিশোরদের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। এই আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে এসেছে বিএনপি এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন সমমাননা দলগুলো। একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমির উপর দাঁড়িয়ে ৫ই আগস্ট খুনি শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। এখানে যারা উপস্থিত রয়েছে এরা সবাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাকর্মী। তাদের চাকরি তাদের ব্যবসা সমস্ত কিছুকে জলাঞ্জলি দিয়ে তারা জনতার কাতারে আন্দোলন করেছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সারা বিশ্বে গুণীজন হিসেবে পরিচিত। কি হির্ষা ছিল তার প্রতি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমান তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মামলা দিয়েছিল। কিন্তু ডক্টর ইউনূস তো কোন দল করেন না কিন্তু তার বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়েছিল। আদালতের ১০ তলায় ৮৫ বছরের এই গুণী মানুষটিকে হাঁটতে হাঁটতে উপরে উঠতে হয়েছে এসব বিষয়ে তো মিডিয়ায় কোন প্রচার হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল যারা আছেন সবাই দেশের স্বার্থের সুসম্পর্ক রাখতে চায় তাই বলে কি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি হলে আমরা প্রতিবাদ করতে পারবো না? প্রতিদিন সীমান্ত রক্তাক্ত হবে আমরা কি প্রতিবাদ করতে পারবো না? এই পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ১৫-১৬বছর টিকিয়ে রেখেছিল ভারত এবং এই টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আমাদের ভাষা সংস্কৃতি স্বাধীনতা গণতন্ত্র সবকিছু অবনমিত ছিল। এবং এর জন্য দায়ী ভারত এবং এর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রতিবাদের কারণ।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামীলীগ ও নির্বিঘ্নে নির্বাচন করে জিততে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় ঢাকায় মেয়র নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের হানিফ সাহেব জয়ী হয়েছিল এটাই তো বিএনপির কৃতিত্ব এবং গর্ব। বিএনপি’র চিন্তা চেতনা বহুমাত্রিক। কিন্তু শেখ হাসিনার চিন্তা চেতনা ভিন্ন রূপ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ