রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিনা উসকানিতে তাঁরা হকিস্টিক, রড, চাপাতি, লাঠিসোঁটাসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন৷ হামলায় কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ ইকবাল খান, আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন৷’
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সরাসরি নির্দেশে ছাত্রদলের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাকিবুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘নেতা–কর্মীরা আমাদের মানবঢাল তৈরি করে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন৷ হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও আছেন ছাত্রদলের সেলিম মাহমুদ, এ বি এম এজাজুল কবির, সজীব মজুমদার ও ইব্রাহিম৷ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের দুই হাত ভেঙে গেছে৷ নারী নেত্রীর ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পারে না৷ তাঁরা বহিরাগত সন্ত্রাসী৷ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি৷’
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ তাদের রুটিন ওয়ার্ক অনুযায়ী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে৷ আমরা আবারও ক্যাম্পাসে যাব৷ আমাদের ক্যাম্পাসে আমরাই থাকব৷ যত সন্ত্রাসী কার্যক্রমই হোক, আমরা আমাদের কাজ করে যাব, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা থাকতে চাই৷’
হামলাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও বগিরাগত ব্যক্তিরা অংশ নেন বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন৷ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের হামলায় আহত আমাদের অনেক নেতা-কর্মী জীবনমৃত্যুর শঙ্কায় রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ছাত্রদল অবশ্যই ক্যাম্পাসে যাবে৷’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘ছাত্রলীগ হকিস্টিক, চাপাতি, রডসহ দেশি অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে৷ আমাদের ক্যাম্পাসে আসাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পয়েন্টে পয়েন্টে ছাত্রলীগ অবস্থান নিয়েছিল৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে আমাদের মিছিল শুরু হয়৷ মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছাতেই ছাত্রলীগের তিন শতাধিক নেতা-কর্মীর একটি দল আমাদের বাধা দেয়৷ তাঁরা বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা করে৷ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ এই হামলা করেছে৷’
ছাত্রদলের ওপর এই হামলাকে ‘প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন৷ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজাকারদের তল্পিবাহক ও সন্ত্রাসের ডিস্ট্রিবিউটর ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল তাদের সহিংস সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে৷ এর ধারাবাহিকতায় দেশি অস্ত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে৷ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার স্বার্থে সব মতের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছাত্রদলের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে৷
