হত্যা করা হয়েছে আমার স্বামীকে”: নাসির উদ্দিন পিন্টুর সহধর্মিণী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:২২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হত্যা করা হয়েছে আমার স্বামীকে”: নাসির উদ্দিন পিন্টুর সহধর্মিণী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা–৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ বলে দাবি করেছেন তার সহধর্মিণী এবং সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার কল্পনা।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

এছাড়াও পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও ৫৭ সেনা কর্মকর্তার নির্মম হত্যার মামলায় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি আইজিপি বাহারুল আলমকে অবিলম্বে অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাসিমা আক্তার কল্পনা বলেন, “আমি বহুবার বলেছি—আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রমাণ করেছে যে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হাইকোর্টের চিকিৎসার নির্দেশ অমান্য করে তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ড ও নির্যাতনের কারণে তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়। থেরাপির জন্য আদালতের আদেশ থাকলেও তা পালন করা হয়নি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার পরিবারের ব্যবসা–বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সন্তানের পড়াশোনার টাকাও এনবিআর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ–সমর্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা পিন্টুর জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত হয়ে তাকে প্রতিদিন ‘আটকে রাখার’ নির্দেশ দিত। “একদিনের জন্যও তাকে কারাগার থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি,” বলেন কল্পনা আক্তার।

শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, “স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যে তৎকালীন সিআইডি কর্মকর্তারা, বিশেষ করে আব্দুল কাহহার আকন্দ, নূর মোহাম্মদ এবং বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং পিন্টুর অন্যায় গ্রেপ্তারে ভূমিকা রেখেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের নৈতিকতার ভিত্তিতে কারও ‘অপরাধের দায় ঝুলিয়ে রাখা’ গ্রহণযোগ্য নয়। আইজিপির অপসারণের দাবিতে তারা আরও দুই দিন অপেক্ষা করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, পূর্ববর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এসব হত্যাকাণ্ড সাজিয়েছে। তারা পিন্টু এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ সকল নিখোঁজ ও নিহত বিএনপি নেতাকর্মীদের ন্যায়বিচার দাবি করেন।

বক্তব্যের শেষে বক্তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান, “আমরা খুনমুক্ত এবং সাম্যের নতুন বাংলাদেশ চাই। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট সকলকে ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে আহবান জানাই।”

অ্যাডভোকেট সোহাগের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সেক্রেটারি আলমগীর কবির সেলিম, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোহন, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনামসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ