হরতাল-অবরোধঃ জনগনের নীরব সমর্থন নাকি আতঙ্ক!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৩ ১:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৩ ১:১৫ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর তৃতীয় দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধে দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় একদমই হাতেগোনা যানবাহন চলাচল করছে। একইসাথে রাস্তায় সাধারণ জনগনের উপস্থিতিও বেশ কম।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, টিকাটুলি, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, কাজলা, শনির আখড়া, রায়েরবাগ এবং এমনকি সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে সিএনজি অটোরিকশা, রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী পিকআপ চলাচল করলেও অন্যান্য দিনের তূলনায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। একইসঙ্গে অনেক এলাকায় বন্ধ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।
রাস্তায় জনগণ ও যানবাহনের কম উপস্থিতি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকে অনেকে আখ্যায়িত করছেন অবরোধ’র প্রতি নীরব সমর্থন বলে, আবার অনেকে বলছেন অতঙ্কের কারণে এই প্রতিক্রিয়া।
যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া বাস স্টান্ডে যাত্রীর জন্য সারি-সারি বাস এবং সিএনজি দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও যাত্রী সংখ্যা ছিল একেবারেই নগন্য। বাস ড্রাইভার, হেলপার এবং সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনসমাগম দেখা গেলেও লাভ নেই। কারণ তারা বেশীরভাগই রাজনৈতিক নেতা কর্মী।
শনির আখড়ায় দাড়িয়ে থাকা সিএনজির চালকেরা যাত্রি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যখন অবরোধ ছিলো না যাত্রি পেয়েছি। আজ অবরোধ, কোন যাত্রী পাচ্ছি না। মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না। দু একজন বের হলেও রাস্তা ফাকা থাকায় বাসে করে চলে যাচ্ছে।
সিএনজি চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত একজন যাত্রিও পাই নাই। রাস্তায় মানুষ তেমন বের হচ্ছে না।
এরই মধ্যে দেখা যায় সময় পরিবহনের একটি বাস থেমে রয়েছে। সেটির হেলপার যাত্রি ডাকছিলেন। কথা হলে জানা যায় তার নাম কাউছার। তিনি বলেন, সকাল থেকে প্রতিটি টিপে ১০/১৫ জন যাত্রি পাই। কিন্তু আজ যাত্রি নাই বললেই চলে।
তিনি বলেন, যেদিন অবরোধ ছিলো না বাসে জায়গা ছিলো না। কিন্তু আজ যাত্রি পাচ্ছি না। অবরোধের দিনগুলোতে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না। এমনি তে মানুষের মনে আতঙ্ক আছে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় যার কারণে বাসে চরতে চায় না মানুষ। আপনাদের মনে আতঙ্ক নাই ? থাকলে বের হয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আতঙ্ক তো আছে তবে পেটের দায়ে বের হতে হয়েছে।
পাশেই দাড়িয়েছিলেন আশরাফুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় বের হয়েছি। তবে রাস্তায় মানুষ খুব কম বের হচ্ছে।
আতঙ্কে মানুষ বের হচ্ছে না, নাকি অবরোধ সমর্থন করেছে কি মনে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষের মনে তো ভয় আছেই, আবার বর্তমান সময়ে জিনিসপত্রের যে দাম, সবাই বিরক্তও বটে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্থান পল্টন মোড়, শাহাবাগ, ফার্মগেট বাড্ডা এলাকায় ঘুরেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাইড শেয়ারার সাব্বির মিয়া বলেন, অন্যান্য দিনে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা ইনকাম হয়। কিন্তু আজ এখন পর্যন্ত এক টাকাও ইনকাম করতে পারিনি।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে কিছু কিছু মানুষ দেখা গেলেও তাদের গন্তব্য আশেপাশে। তাই তারা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছে না হেঁটে হেঁটেই যাতায়াত করছে। এই অবরোধের দিনে মানুষজন খুব কম বের হচ্ছে।
এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, প্রত্যেকটি আন্দোলন বা রাজনৈতিক কর্মসূচী ঘিরে অনেক সময়ই নানা ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। হরতাল, অবরোধ শুরু থেকেই একটি আতঙ্কের বিষয়। পিকেটিং, ভাংচুর, নাশকতা। এক্ষেত্রে অগ্নিসংযোগ পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে। আবার অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দামে জনগনের ত্রাহি অবস্থা। সেক্ষেত্রে তারা একটা নীরব সমর্থনও দিয়েছেন। অনেকেই নিজের গাড়ি বের করছেন না। প্রয়োজন না হলে নিজেও বের হচ্ছেন না। সড়ক মোটামুটি ফাঁকা। আবার যেদিন অবরোধ নেই সেদিন আবার পুরোনো চিরচেনা রূপে ফিরে যায় এই তিলোত্তমা নগরী।
জনতার আওয়াজ/আ আ