২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় : মুজিবুর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:২২, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় : মুজিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
আওয়ামী সরকার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, তৎকালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারা দেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে। ওই দিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে জনসভার স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ করে ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা গোটা পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর লগি-বৈঠা, লোহার রড ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে শুরু করে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হলে চারিদিক থেকে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে জামায়াতের সমাবেশের দিকে অগ্রসর হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সারা দেশে লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণে ‘আলোচনা ও দোয়ার আহ্বান জানিয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিবুর রহমান বলেন, ২০০৬ সালে ওই সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আমিরে জামায়াত ও শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। জনসভা পণ্ড এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর আঘাত করাই ছিল তাদের আসল লক্ষ্য। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্টন এলাকা লগি-বৈঠাধারীদের তাণ্ডবতায় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হয়। তাদের হামলায় ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে গোটা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। মানুষ হত্যা করে মৃত মানুষের লাশের ওপর নৃত্য করে বর্বরভাবে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করা হয় যা সারা বিশ্বের মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠাধারীদের হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২৮ অক্টোবরের পথ ধরেই তারা দেশে সন্ত্রাসী রাজনীতি শুরু করে, যা তারা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। তখন থেকে দেশকে রাজনীতি শূন্য করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকারসহ মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। বর্তমানে দেশে এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে।

ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করার জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

২৮ অক্টোবরের নারকীয় ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে খুনিদের বিচারের দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছিল এবং মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে খুনিদের রক্ষা করেছে। আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশে এক দিন লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যাকারীদের বিচার হবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশ ও জাতি হত্যা-নৈরাজ্যের কবল থেকে মুক্তি পাবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ।

২৮ অক্টোবর যারা নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণে আলোচনা এবং তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার জন্য আমি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে যারা আহত ও পঙ্গু হয়ে এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ