৫৫ বছর পেরিয়ে ঢাকাই সিনেমার নন্দিত নায়িকা নূতন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ২:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ২:৪৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকাই সিনেমার নন্দিত নায়িকা নূতন। দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবনের ৫৫ বছর পার করেছেন তিনি। নূতন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের নায়িকা। মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) প্রযোজিত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’ ছবিতে অভিনয় করাটাকে নূতন তার জীবনের সেরা একটি কাজ বলেই বিবেচিত করেন। ময়মনসিংহের ব্রাম্মপল্লির মেয়ে রত্না চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান নূতন। বড় বোন গীতার সঙ্গে পরিচয় ছিল সেই সময়ের বরেণ্য অভিনত্রেী সুমিতা দেবীর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সিনেমাতে আসা। সুমিতা দেবী অনেক আগ্রহী মেয়েদের ভিড়ে নায়িকা হিসেবে তার সিনেমার জন্য নির্বাচিত করেন রত্নাকে। সিনেমার নাম ‘নতুন প্রভাত’। পরিচালনা করেছিলেন মোস্তফা মেহমুদ। সুমিতা দেবীর প্রচণ্ড ইচ্ছা ছিল ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমাতে যারা নায়ক-নায়িকা হিসেবে অভিনয় করবেন তাদের নাম থাকবে নূতন ও প্রভাত। যে কারণে রত্না নাম হয়ে যায় নূতন। ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। পাল্টে গেল রত্নার জীবন।
নূতন বলেন, ‘আমার শুরুটা এত চমৎকার হবে তা কখনোই আমার ভাবনায় ছিল না। সুমিতা দিদির কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে আমার স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সঙ্গে পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ ভাইয়ের কাছেও আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। দেখতে দেখতে চলচ্চিত্র জীবনের এতটা বছর পেরিয়ে এসেও এখনো দর্শকের যে ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এখনো কোনো অনুষ্ঠানে গেলে যে সম্মান পাই তা আমাকে সত্যিই আপ্লুত করে। আমি কৃতজ্ঞ আমার ভক্ত দর্শকের প্রতি।’
নতুন প্রভাত, ওরা ১১ জন, সংগ্রামের পর নতুন চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি নিয়েছিলেন নিজে থেকেই। কারণটা একেবারেই ব্যক্তিগত। পাঁচ বছর পর তিনি অভিনয়ে আবারও নিয়মিত হন নায়ক রাজ রাজ্জাকের ‘পাগলা রাজা’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। দর্শক তাকে এই ছবিতে নায়িকা হিসেবে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে নেয়। শুরু হয় নূতনের সাফল্যের ইতিহাস। বি এন প্রোডাকশনের ব্যানারে নূতনের প্রযোজিত সিনেমা ‘চান সুরুজ’, ‘কাবিন’, ‘সাহস’, ‘রূপের রানি গানের রাজা’, ‘নাচে নাগিন’, ‘শত্রু ধ্বংস’সহ আরও বেশ কিছু সিনেমা।
এই অভিনেত্রীর উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো ‘বদনাম’ ‘লাইলী মজনু’, প্রাণ সজনী’, ‘সোনা বউ’, ‘ধর্ম আমার মা’, ‘আদিল’, ‘নীতিবান’, ‘স্ত্রীর পাওনা’, ‘আব্দুল্লাহ’, ‘আঁখি মিলন’ ইত্যাদি।
জনতার আওয়াজ/আ আ