জাতিসংঘে পশ্চিমাদের কড়া সমালোচনায় নেতানিয়াহু, ভাষণ বয়কট বিশ্বনেতাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৫২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতিসংঘে পশ্চিমাদের কড়া সমালোচনায় নেতানিয়াহু, ভাষণ বয়কট বিশ্বনেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পশ্চিমাদের কড়া সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ পশ্চিমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বার্তা দিচ্ছে- ইহুদিদের হত্যা করলে তার সুফল মেলে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা সঠিক কিছু করেননি। আপনারা প্রচণ্ড মাত্রায় ভুল কিছু করেছেন।’

এর ফলে ইহুদি ও নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা বাড়বে বলেও উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অধৈর্য উগ্রবাদী, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ উপহার দিচ্ছেন।’

এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে গাজায় চলমান গণহত্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইসরায়েলের বারবার হামলার প্রতিবাদে অসংখ্য কূটনীতিক ওয়াকআউট করেছেন। নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই বহু প্রতিনিধি দ্রুত হল থেকে বেরিয়ে যান। গত বছরের মতো এবারও একই ধরনের প্রতিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটল। গতকাল একসঙ্গে অনেকেই বয়কট করায় বেরোনোর পথে লম্বা লাইন তৈরি হয়।

ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ৭ অক্টোবরের পর জেরুজালেম থেকে এক মাইল দূরে ফিলিস্তিনিদের একটি রাষ্ট্র দেওয়া অনেকটা ১১ সেপ্টেম্বরের পর নিউইয়র্ক সিটি থেকে এক মাইল দূরে আল-কায়েদাকে রাষ্ট্র দেওয়ার মতো। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় উপস্থিত মার্কিন প্রতিনিধিদলকে হাত তালি দিতে দেখা গেছে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি একেবারেই পাগলামো, সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ আচরণ এবং আমরা এটি করব না।’

বক্তব্যের শেষ দিকে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে আসবে। তিনি আরও দাবি করেন, এ যুদ্ধের ফলে আব্রাহাম চুক্তির পরিসর বাড়বে। প্রসঙ্গত, আব্রাহাম চুক্তি ইসরায়েল ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের উদ্দেশ্যে প্রথম মেয়াদে সামনে নিয়ে এসেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজার যুদ্ধের কারণে সেটি ব্যাহত হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু তা মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি স্থাপন সম্ভব। ইসরায়েল লেবাননে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। গত নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

এদিকে সিরিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। অথচ আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়াতেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরীয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের বিজয় ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তির নাটকীয় সম্প্রসারণ করবে, যা পাঁচ বছর আগে আরব নেতা ও আমাদের মধ্যে করে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।’

মোটাদাগে জাতিসংঘে নেতানিয়াহু যা যা দাবি করেছেন, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল নেই। গাজায় প্রতিদিন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি করেছে নেতানিয়াহুর সরকার। ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে গালফ রাষ্ট্র কাতারও। শুরু থেকে মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখে আসা কাতার হামলার পর অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট করেছে।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত হয়ে রয়েছে গাজা যুদ্ধ ও সেখানে প্রতিদিন চলমান প্রাণহানির জেরে। কিন্তু নেতানিয়াহুর ভাষণে সে বিষয়গুলো উঠে আসেনি। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ