গোপালগঞ্জে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী কবি সুকান্তমেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ণ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচায্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম সুকান্ত মেলা। এই মেলাকে ঘিরে কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রমিদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

বুধবার (১৩ মে) কিশোর কবি সুকান্ত ভট্রাচার্য্যরে ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈত্রিক ভিটায় তিন দিনব্যাপী ১৪তম সুকান্ত মেলার আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
বিকেলে ফিতা কেটে এ মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এরপর সন্ধ্যায় কবি সুকান্তের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ও জেলা প্রশাসক মো: আরিফ-উজ- জামান।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কবি সুকান্ত শোষিত মানুষদের পক্ষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছেন। তার প্রতিটি কবিতায় ছিলো প্রতিবাদের সুর। বর্তমান সরকার তার চেতণাকে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। কবি সুকান্ত মেলা সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্ম কর্তকর্তা সাগুফতা হক বক্তব্য রাখেন।
সন্ধ্যায় মেলার উদ্বোধন করা হলেও দুপুর থেকেই মেলার শুরু হয় মেলার অনুষ্ঠনিকতা। কবি ভক্ত, সাংস্কৃতিকপ্রেমী আর স্থানীয়দের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে কবি সুকান্তের পৈত্রিক ভিটা।

সুকান্ত মঞ্চে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন কবি সুকান্তের লেখা কবিতা, গান, নাচ ও নাটক। বিভিন্ন কবিদের আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়াও বসেছে গ্রামীণ মেলা, আয়োজনকে ঘিরে কোটালীপাড়া ও এর আশপাশের এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। আগামী শুক্রবার এ মেলা শেষ হবে।
কিশোর কবি সুকান্তের স্মৃতি ধরে রাখতে কবির রচিত বইয়ের পরিধি বাড়ানো ও অডিটরিয়ামটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার দাবি সংস্কৃতিপ্রেমীদের। যাতে নতুন প্রজন্ম কবি সুকান্ত সম্পর্কে জানাতে পারে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আদর্শকে বর্তমান যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, এই মেলার মধ্যে দিয়ে কিছুটা হলেও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বাঙালি জাতি বা আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা তুলে ধরতে পারব।
জনতার আওয়াজ/আ আ