জেলায় জেলায় অভিযান জেল-জরিমানা-জ্বালানি তেল জব্দ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জেলায় জেলায় অভিযান জেল-জরিমানা-জ্বালানি তেল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে গত সোমবার ও মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে প্রশাসন। এ সময় কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত কৃষক ও চালকদের জ্বালানি তেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি জেলায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় খোলা বাজারে পেট্রল বিক্রির দায়ে কেশব রায় (২৭) নামে এক মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এর আগে দুপুরে কেশব রায়কে ২৭ লিটার পেট্রলসহ আটক করা হয়। তিনি উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের কুমারগারী এলাকার সুভাষ রায়ের ছেলে।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে ১ হাজার ৬৭১ লিটার ডিজেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আজাদ মোড় এলাকায় আব্দুস সালামের মালিকানাধীন ওয়ার্কশপে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবানা তানজিন এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় ওয়ার্কশপের মালিক পলাতক রয়েছেন।

ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুস সালামের ওয়ার্কশপে অভিযান পরিচালনা করেন ঘোড়ারঘাটের ইউএনও। এ সময় ওয়ার্কশপে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ১ হাজার ৬৭১ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুস সালাম পালিয়ে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উপস্থিত ছিল।

ইউএনও জানান, ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ডিজেল সরকার নির্ধারিত দামে ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে নো ফুয়েল কার্ড, নো পেট্রল-অকটেন’ নীতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার থেকে এই নীতি কার্যকর করা হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বৈধ কাগজপত্রধারী চালকদের দেওয়া হয় ফুয়েল কার্ড।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে জেলা সদর ও পৌরসভার পেট্রল-অকটেন ব্যবহারকারীদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থাপিত দুটি বুথে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে ফুয়েল কার্ড প্রদান হয়। সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একই নিয়মে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, পেট্রল ও অকটেনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মোটরসাইকেল মালিক-চালকদের জন্য ফুয়েল কার্ড চালু করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নিবন্ধনের এক সেট ফটোকপি ও একটি পাসপোর্ট আকারের ছবি জমা দিলে তারা বিনামূল্যে একটি ফুয়েল কার্ড পাবেন।

ফুয়েল কার্ড প্রদানকে চালকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার কালা বিবির দীঘি ও মেডিকেল মোড় বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা বলেন, ‘বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ধাপে ধাপে আমরা প্রত্যেকটি বাজার ও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব। যারা মজুত করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

গাইবান্ধা: ফিলিং স্টেশনে পেট্রল না পেয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছেন মোটরসাইকেলের চালকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মোটরসাইকেলের চালকরা অবরোধ তুলে নেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাইবান্ধা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার আর রহমান ফিলিং স্টেশনে পেট্রল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের চালকরা গতকাল সকাল থেকে অপেক্ষা করতে থাকেন।

পরে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মেশিন বিকল হয়ে গেছে। এ খবর শুনে স্টেশনের সামনের আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন মোটরসাইকেলচালকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবুর হস্তক্ষেপের পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন।

মোটরসাইকেলের একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনে অনেক পেট্রল রয়েছে। পেট্রল থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তারা সরবরাহ করছে না। পরে আমরা সড়ক অবরোধ করি। ঈদের পর যানবাহনের প্রয়োজন পড়ে বেশি। কিন্তু পেট্রল না থাকায় তাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই জরুরি কাজে বের হয়ে বিপাকে পড়ছেন।’

এসব বিষয়ে আর রহমান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জুয়েল মিয়া বলেন, গতকাল হঠাৎ পাম্পের ফুয়েল ডিসপেনসার (ফিলিং স্টেশন মেশিন) দুটি বিকল হয়ে যায়। তাই যানবাহনে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন একটি মেশিনে তেল দেওয়া হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ: সেচ মৌসুমে ভর্তুকি মূল্যে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে ‘ফুয়েল কার্ড’ দেওয়ার কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয়নি। এদিকে গোপালগঞ্জের ২১টি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নীতিগত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কোনো ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলার ২১টি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও জবাবদিহি নিশ্চিতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সাড়ে সাত হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে বিজিবি ও পুলিশ। গত সোমবার রাত আড়াইটার সময় ‘রাহিম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেনের অসহযোগিতা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে. গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে রাহিম এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ। সেখানে পাম্পের দৈনিক বরাদ্দের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা সারা রাত ওই তেলের স্তূপ পাহারা দিয়ে রাখেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি লিটার ডিজেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রাতেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্য ইউএনওকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সকালে বিস্তারিত জানানোর পরেও তিনি রহস্যজনক কারণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জনরোষ ও চাপের মুখে পড়ে গতকাল সকাল থেকে ওই ডিপো মালিক প্রত্যেক কৃষককে ৫ লিটার করে ডিজেল দিতে বাধ্য হন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকেই নিজ নিজ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাদের।
এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে এবং চাহিদা অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান জানান, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ শুরু হলে তেলপাম্পে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ