সিলেট ৬-ভিআইপি আসনে বিএনপিতে চমকের অপেক্ষা, জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট ৬-ভিআইপি আসনে বিএনপিতে চমকের অপেক্ষা, জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ভিআইপি আসনখ্যাত সিলেট-৬ নির্বাচনী আসন। যে আসনটি সিলেটের শিক্ষিতদের অঞ্চল গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার নিয়ে অবস্থিত। এ আসনের এমপি ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিএনপি’র শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে এ আসনে। তবে মরণ কামড় দেবে জামায়াতে ইসলামী। চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটির নেতারা। ফ্যাক্টর হবে আওয়ামী লীগসহ নির্দলীয় ভোট। ওই ভোট যেদিকে যাবে, জয় তারই হবে- বলছেন ভোটাররা। সিলেট-৬ আসনে বর্তমানে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন ১০ জন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। রাতের ভোটখ্যাত ওই নির্বাচনে তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও তিনি এলাকা ছাড়েননি। তবে এবার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ফয়সল চৌধুরী। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নে অনেক বেশি এগিয়ে গেছেন ভিআইপি প্রার্থী বলে খ্যাত ড. এনামুল হক চৌধুরী। বিএনপি’র মধ্যপ্রাচ্য লবিংয়ে তিনি ভূমিকা রাখছেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে সফরসঙ্গী ছিলেন। তার একান্ত প্রচেষ্টায় কাতারের আমীরের উড়োজাহাজযোগে দলের চেয়ারম্যান লন্ডনে যান। ড. এনামুল রাজনীতির কারণে দেশে কারান্তরীণও হয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এ আসনে প্রচারণায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক উপদেষ্টা অহিদ আহমদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান পপি, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, জেলা বিএনপি’র সহশিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইয়াহইয়া হক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। দুই উপজেলায় প্রতিদিনই তারা গণসংযোগ শোডাউন দিচ্ছেন। তবে তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে জেলার সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। গোলাপগঞ্জ থেকে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন এমরান চৌধুরী। আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে আসনটিতে জামায়াত নতুন মুখ হিসেবে ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আসনটিতে অতীতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের বর্তমান আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচন করলেও এবার প্রার্থী বদল হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সেলিম উদ্দিন এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন। তিনি এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন জামায়াত সমর্থিত ভোটাররা। আসনটিতে ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের হাফেজ মাওলানা মো. ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাদিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আজমল হোসেন নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক হুইপ সেলিম উদ্দিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও ফোনে নির্বাচনী মাঠ সাজাতে চাইছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এড. জাহিদুর রহমান জোরেশোরে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সুরমা-কুশিয়ারা আর সোনাই নদী বিধৌত এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবার বিজয়ী হওয়া ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। ফলে যেখানে বিএনপি নির্ভার থাকার কথা, সেখানে প্রার্থী আধিক্যতায় বহুধাবিভক্ত নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রার্থী নিয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা দেখতে চায়। বেশি প্রার্থীর জনসংযোগের কারণে সবাই উজ্জীবিত। জামায়াতের উপজেলা আমীর ফয়জুল ইসলাম বলেন, একক প্রার্থী নিয়ে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। নির্যাতিত মজলুম দল হিসেবে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ