অক্টোবরে তফসিল, ডিসেম্বরে নির্বাচনের সংকেত পাচ্ছি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:১১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অক্টোবরে তফসিল, ডিসেম্বরে নির্বাচনের সংকেত পাচ্ছি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ ৫:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৫ ৫:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ-পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দ্য ডেইলি স্টারকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান, পোশাক শ্রমিকদের পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ মানবজমিন-এর পাঠকদের জন্য তুল ধরে হলো-

দ্য ডেইলি স্টার: দেশ এখন কোন দিকে যাচ্ছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন: সরকারের সব কাজে একজন উপদেষ্টার সম্পৃক্ততা থাকে না। আমি যদি এই প্রশ্নের মূল বিষয় বুঝে থাকি, তাহলে বলতে পারি, নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, তারা কাজ করছে। আমি যদি খুব ভুল না করে থাকি, তাহলে অক্টোবরের দিকে তফসিল ঘোষণা, ডিসেম্বরে নির্বাচন এবং জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হতে পারে—এমন সংকেত পাচ্ছি। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, জরুরি সংস্কার শেষে নির্বাচনে যেতে চাইলে এ বছরের শেষের দিকে এবং বিস্তৃত সংস্কার চাইলে আগামী বছরের প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এসেছে। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংস্কার টিকবে না।

ডেইলি স্টার: পূর্ব অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন?

সাখাওয়াত হোসেন: আমি যা বলছি, এগুলো সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত। প্রধান উপদেষ্টার দেয়া টাইমলাইন অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। আমি মনে করি, কিছু বিষয়ে মৌলিক সিদ্ধান্তে না এসে নির্বাচনে যাওয়া উচিত নয়। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়ের মধ্যে সেটা সম্ভব। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার চালিয়ে নেবে। এটা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একটি ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছেন। তিনি যখন এ ধরনের বক্তব্য রাখেন, তখন আশ্বস্ত হওয়ার মতো কারণ আছে। তবে, অতীত অভিজ্ঞতা ভালো না থাকায় অনেকের মধ্যে সংশয় কাজ করে। কারণ, রাজনৈতিক দলে একজন নেতাই সব নন। তার দলে আরও অনেকে আছেন। এর বাইরে অন্যান্য দলও সংসদে যাবে। তারা কী চাইবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি স্টার: আপনি নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কি নির্বাচন কমিশন করে নাকি সরকার?

সাখাওয়াত হোসেন: পৃথিবীর কোথাও নির্বাচন কমিশন একা নির্বাচন করতে পারে না। ছয়-সাত লাখ মানুষকে কাজ করতে হয়। পুলিশ, প্রিসাইডিং অফিসারসহ বেশিরভাগ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হয়। এতে দোষের কিছু নেই। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিটা কী। যেমন, গত তিনটি নির্বাচনে সরকার চেয়েছে তাকে জিততে হবে, পরে অন্য কিছু। এটা করতে গিয়ে তারা প্রথমবার বিরোধীদল ছাড়া নির্বাচন করলো, দ্বিতীয়বার রাতের নির্বাচন করলো এবং তৃতীয়বার ডামি নির্বাচন করলো। পৃথিবীতে এমন মডেলে নির্বাচন আর কোথাও দেখা যায়নি। এমনকি আমাদের দেশে এরশাদের আমলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসকরা বেছে বেছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের লোকজনকে প্রিসাইডিং অফিসার বানিয়েছিল।

ডেইলি স্টার: এখনো তো আগের অবস্থাই রয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে কী বিশ্বাস এসেছে যে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, ভোট দিতে পারবে?

সাখাওয়াত হোসেন: সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এখনো আসেনি। নির্বাচন কমিশনের উপরের দিকে পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে গত এক দশকের বেশি সময়ে হওয়া অনিয়মের বিষয়ে মানুষের আস্থা রাতারাতি ফেরানো সম্ভব নয়। তাই অনাস্থার জায়গাটা এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করি। মানুষের আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনকে বলবো, এটা কোনো আমলাতান্ত্রিক দায়িত্ব নয়। এটা অনেক কঠিন দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের আপনাদের ওপর বিশ্বাস থাকতে হবে। যেমন, আমরা (যখন নির্বাচন কমিশনার ছিলাম) খারাপ-ভালো যাই করি, আমাদের ওপর মানুষের একটা বিশ্বাস ছিল।

ডেইলি স্টার: রাজনৈতিক সরকার মুখে মুখে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার কথা বললেও আসলে করে না। এখন অন্তর্বর্তী সরকার আছে। আপনারা কমিশনকে সহযোগিতা করবেন?

সাখাওয়াত হোসেন: অবশ্যই করবো। আমাদের সরকার থেকে এরই মধ্যে বলে দেয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফেরাতে হবে। আমরা যখন দায়িত্ব পালন করেছি তখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি।

ডেইলি স্টার: নির্বাচন কমিশন কীভাবে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাবে?

সাখাওয়াত হোসেন: এর আলাদা কোনো ফর্মুলা নেই। যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের বুঝতে হবে কাদের সঙ্গে কথা বললে হবে, কাদেরকে চায়ের দাওয়াত দিতে হবে। নিজেদের মতো কাজ করতে হবে।

ডেইলি স্টার: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ডিলিমিটেশন আলাদা কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে। এটা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করবে বলে বর্তমান কমিশন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আপনি কী মনে করেন?

সাখাওয়াত হোসেন: ডিলিমিটেশন অনেক জটিল একটি বিষয়। অন্যান্য দেশে এটা সাধারণত একটি কমিশনের মাধ্যমে হয়। নির্বাচন কমিশন এটা করলে রাজনৈতিক দলের দোষারোপের শিকার হতে হয়। আলাদা কমিশনের মাধ্যমে হলেও নির্বাচন কমিশনের প্রণীত গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এমন হলে মনে করি ভালো উদ্যোগ হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ