অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪৭, মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নানা সুবিধা আমাদের জীবনকে সহজ করছে। তবে এই প্রযুক্তির ওপর আমাদের অতিরিক্ত ভরসা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

২০২৫ সালে বিবিসির এক গবেষণায় দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় চ্যাটবটগুলোর দেওয়া সংবাদের অর্ধেকের বেশি উত্তরে মারাত্মক ভুল ছিল। প্রায় ২০ শতাংশ উত্তরে ভুল তারিখ, সংখ্যা বা ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এআই বিবিসির প্রতি আটটি উদ্ধৃতির একটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা কিংবা পরিবর্তিত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই নীতিবিদ ড. ক্যারিসা ভেলিজ বলেন, ‘এআই সত্য প্রকাশের জন্য তৈরি হয়নি। এটি বিশ্বকে বোঝে না। কারণ এটি এই জগতের বাসিন্দা নয়।’

এই ভুল কেবল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানুষের জীবনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন কিশোর অ্যাডাম রেইন ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে। একপর্যায়ে চ্যাটবটটি তার মানসিক সঙ্গী হয়ে ওঠে। আদালতে দায়ের করা এক মামলায় বলা হয়, চ্যাটজিপিটি অ্যাডামের সঙ্গে আলাপে ১ হাজার ২৭৫ বার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তোলে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যাডাম আত্মহত্যা করে।

যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য এআই ব্যবহার করেছেন। অথচ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, এআই থেরাপি চ্যাটবটগুলো সংকটের সময় সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অনেকে চ্যাটবটের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করছেন, যা তাদের বাস্তব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। এক জার্মান জরিপ অনুযায়ী, চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করা ব্যক্তিরা বেশি একাকিত্বে ভোগেন। এমনকি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মানুষ আরও বেশি মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর আচরণ করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টগুলো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই বাজারে নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সফটওয়্যার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এআই বড় বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেসন লেমকিনের একটি অ্যাপ তৈরির সময় এআই এজেন্ট তার পুরো ডেটাবেস মুছে দেয় এবং তা ঢাকতে ভুয়া প্রোফাইল ও তথ্য তৈরি করে।

বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা টারনেস বলেন, ‘এআইয়ের সুবিধার মূল্য হিসেবে মানুষকে বিভ্রান্তিকর বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’ এই প্রযুক্তির জবাবদিহিতা ও নৈতিক সীমারেখা নিশ্চিত না করলে মানবসভ্যতাকে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ