অতিসত্তর রিজভীর মুক্তি চাইলেন আমীর খসরু মাহমুদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:০৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অতিসত্তর রিজভীর মুক্তি চাইলেন আমীর খসরু মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৯:১৮ অপরাহ্ণ

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রিজভীর মত নেতাকে জেলে ঢুকিয়ে যে রাজনৈতিক অপচিন্তা করছে সরকার, এটি জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা। একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে, মামলা দায়ের করে, নিপীড়ন নির্যাতন করে, ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকা কিন্তু সেটি তো সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে , তারা বার্তা দিয়েছে, যারা দেওয়ালের লিখন পড়তে পারছে না । তাদের জন্য আগামী দিনগুলো খুব কঠিন হবে। আমরা অতিসত্তর রিজভীর মুক্তি চাই।

রবিবার (২৬ ফেব্রয়ারি) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর আদাবরের বাসায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। কারাবন্দী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের বাসায় যান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি রিজভীর আদাবরের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, রিজভীর দরকার উন্নত চিকিৎসা। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তার আগামী দিনগুলো তো আরো বিষন্ন হবে। কঠিন সময়ের মধ্যে সে অতিক্রম করছে। এগুলো আমাদের দেশের সাংবিধানিক পরিপন্থী কাজ । বাইরে যতোটুকু জেলের ভিতর গেলে আরো বেশি জুলুমের শিকার হতে হয়। সব জায়গায় নির্যাতন নিপীড়নের অবস্থা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে রিজভী আহমেদ এমন একজন নেতা, যার সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তার রাজনীতি প্রজ্ঞা, শিক্ষা , সাহস নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তার মতন নেতাকে জেলে নিয়ে যে অপসংস্কৃতির রাজনীতির চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি কিন্তু ভবিষ্যতে রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।

রিজভী আহমদের মামলা নিয়ে প্রশ্ন করলে তার স্ত্রী বলেন, মামলার সঠিক সংখ্যা জানা নেই, যেদিনই তার জামিনের জন্য কোর্টে নিয়ে আসা হচ্ছে সেদিনই তাকে এক না একটা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে খসরু বলেন, রিজভী সাহেবের যতগুলো জানা মামলা আছে, তার চাইতে কত যে অজানা মামলা আছে তা কেউ জানে না। এবং সরকার সেগুলো প্রয়োজন মতো বের করছে আর সাবমিট করছে। অর্থাৎ জেল থেকে তিনি যাতে বের হতে না পারেন সে বিষয়ে পন্থা অবলম্বন করা দরকার, সরকার তাই করছে।

নির্বাচন বিষয়ে খসরু বলেন, বিএনপি নির্বাচনের বিষয় পরিষ্কার করেছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনে যেতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে। তাদের সরকার বাছাই করতে পারবে। যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। এটি যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রিজভী আহমেদের স্ত্রী দাবি করে বলেন, তার (রিজভীর) সুচিকিৎসা হওয়া দরকার। ওর কোভিডের কারণে নার্ভের অবস্থা ভীষণ খারাপ। সে হার্টের রোগী। এগুলোর সমস্ত ডাক্তারি সার্টিফিকেট আমরা কোর্টে দিয়েছি। তারপরেও কোর্ট এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা চাচ্ছি, ওকে কোন একটি বিশেষশাসিত হাসপাতালে নিয়ে চেকআপ করা হোক। তা না হলে ওর শরীরটা আরো খারাপ হয়ে যাবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মাদ মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং ও মাহাবুল ইসলাম, জাসাস আহ্বায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সামাজিক মাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা, ঢাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, ঢাবি এসএম হল সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে ৭ ডিসেম্বর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওইদিনই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চারশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। সেদিন রুহুল কবির রিজভীকেও আটক করা হয়।

সম্প্রতি তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি কারাগারে যাওয়ার আগে দলের বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে নিয়মিত কথা বলতেন। এর মধ্যে কারাগারে থেকেই গত ১৯ জানুয়ারি এলএলএম (মাস্টার্স) পরীক্ষা শেষ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মোট তিনটি পরীক্ষা কারাগারে বসেই দেন তিনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ