অদম্য পদযাত্রা: হেঁটে শহিদ মিনার থেকে স্মৃতিসৌধে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অদম্য পদযাত্রা: হেঁটে শহিদ মিনার থেকে স্মৃতিসৌধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬ ৪:২৩ অপরাহ্ণ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রায় ১২ ঘণ্টা হেঁটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পদযাত্রা করেছে প্রায় ১০০ জনের পদযাত্রীর একটি দল। দলটিতে সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা ১ মিনিটে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শহিদ মিনার থেকে পদযাত্রার সূচনা হয়।

সেখান থেকে জগন্নাথ হল বধ্যভূমি, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং পিলখানা হয়ে মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ অভিমুখে এগিয়ে যায়। এরপর পদযাত্রীরা আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে নৌকায় চেপে তুরাগ নদ পার হয়ে সাভারের সাদুল্ল্যাপুর, কলমা গ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে পদযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম গেটে অবস্থিত শহিদ টিটোর সমাধিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান পদযাত্রীরা।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অভিযাত্রী দলের যৌথ আয়োজনে ১৩ বছর ধরে নিয়মিত এই পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে, যা এবার ১৪তম বছরে পদার্পণ করে। হাঁটার এই পথে নৌকায় চেপে অভিনব এই যাত্রা প্রসঙ্গে আয়োজকরা বলেছেন, ‘নৌকায় তুরাগ নদ অতিক্রমের সময় পদযাত্রী দলের মানসপটে ভেসে উঠবে একাত্তরের ঘটনা, সেই ভাবনা থেকে এই যাত্রা। সেদিন শরণার্থীরা এভাবেই নৌকায় চেপে নিরুদ্দেশের পথে ঘরবাড়ি ছেড়েছিলেন। শত্রুসেনা নিধনে গেরিলা যোদ্ধারা রাতের অন্ধকারে রাইফেল কাঁধে এভাবেই এই পথ পারাপার করেছেন। পথটি সেদিন ছিল আরও দুর্গম। সেই স্মৃতি রোমন্থনের জন্য পদযাত্রায় নৌকা ভ্রমণ রাখা হয়।’

বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পদযাত্রী দলটি সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে সাভার স্মৃতিসৌধে পৌঁছায়। সেখানেই খবরের কাগজের সঙ্গে কথা হয় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া পদযাত্রী ইমাম হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভোর ৬টায় বের হয়েছি। এই যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১২০ জন মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পুরো যাত্রাটি সম্পন্ন করেছেন ৮৫ জন অভিযাত্রী।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রাটি প্রথম শুরু হয়। সেবার স্বাধীনতার ৪২ বছরে ৪২ কিলোমিটার পথ হেঁটে একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোকে স্মরণ করেন অভিযাত্রীরা। সেবার ৭ অভিযাত্রী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু করে বাংলার স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক স্থান স্পর্শ করে, কণ্ঠে মুক্তির গান নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত হেঁটে যান। স্মরণ করেন একাত্তরের উত্তাল সেই সময়ের কথা, যখন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে না-খেয়ে একটি স্বাধীন পতাকার জন্য পাড়ি দিয়েছেন কত শত মাইল! ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’ নাম দিয়ে ২০১৩ সালে অভিযাত্রী দল ইতিহাসের পথ ধরে যে পদযাত্রা করেছিল, পরের বছর তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। বছরের পর বছর বেড়েছে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা।

২০১৬ সালে মুক্তিযুক্ত জাদুঘর যুক্ত হয় অদম্য পদযাত্রার সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তহবিল সংগ্রহের জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য হাঁটি এক মাইল’, ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য, ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটি অদম্য’–এমন স্লোগানে দিনে দিনে পদযাত্রার পরিধি আরও বেড়েছে। যোগ দেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ। চলতি বছর ঢাকার পাশাপাশি মৌলভীবাজারে গার্লস গাইডের আয়োজনে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এই পদযাত্রা মেহেরপুর, জামালপুর, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবছর এই পদযাত্রায় বিভিন্ন স্থানের মানুষ যুক্ত হচ্ছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ