অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা সম্মানজনক হবে না: সালাহউদ্দিন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৫, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা সম্মানজনক হবে না: সালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ১৭, ২০২৫ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিচার ও সংস্কারের নামে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা সম্মানজনক হবে না। এ দেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না। এই সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা।

শনিবার (১৭ মে) খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে তারুণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছিলাম, নির্বাচনমুখী জরুরি সংস্কার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আপনি সেটি গ্রহণ করেছিলেন। আবার সেখান থেকে সরে গেছেন।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, কিন্তু মনে করবেন না রোজ কিয়ামত পর্যন্ত আপনাদেরকে আমরা এই জায়গায় দেখতে চাইতাম। ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, “আপনার সরকারকে লোকজন বলছে এনসিপি মার্কা সরকার। আপনার সরকারে এনসিপির দুই জন প্রতিনিধি বিদ্যমান। তারা উপদেষ্টা এবং এনসিপি সংগঠন করে। আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, তাদের এনসিপি মার্কা দুইজনকে পদত্যাগ করতে বলুন। পদত্যাগ না করলে আপনি বিদায় করুন। আপনার কেবিনেটে আরও কিছু উপদেষ্টা আছে, তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর এবং কিছু এনজিও প্রতিনিধি আছে, তারা দেশে নির্বাচন দিতে চায় না। তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলুন। অন্যথায় আপনি তাদের বিদায় করুন। আপনার দায়িত্ব শুধুমাত্র নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু এখন দেখছি আপনি কথিত মানবিক করিডোর দিতে চাচ্ছেন। দেশের নৌ ও স্থলবন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন। অথচ এই ম্যান্ডেট এদেশের জনগণ আপনাকে দেয়নি। আপনি জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করলেন না এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেন না।”

প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আপনার সরকারে একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার কি সেই আক্কেলজ্ঞান নেই?” তিনি বলেন, “একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে এই দেশের সেনাবাহিনী কীভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করবে? তিনি রোহিঙ্গা, মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চান। সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিদায় করুন। একজন বিদেশি নাগরিকের হাতে জাতীয় নিরাপত্তা কতটুকু নিরাপদ থাকবে সেটি এখন বড় প্রশ্ন। ওই উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বলেছেন, ‘কে কী বললো তাতে কিছু যায় আসে না’।”

তিনি আরও বলেন, “এদেশের মানুষ যদি নির্বাচনের জন্য যমুনা অভিমুখে লং মার্চ করে, সেটি হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এদেশের জনগণের নির্বাচনের জন্য যমুনা অভিমুখে লং মার্চ কাম্য নয়। আমরা সব সময়ই বলেছি, নির্বাচন ও সংস্কার কাজ একসঙ্গে চলবে। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পূর্বের সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ তারুণ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, “গত জুলাই মাসে তারুণ্যের রক্তভেজা রাজপথের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের মুক্তি মেলেনি। এদেশের মানুষ গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারেনি। তাই মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করার জন্য তরুণ সমাজকে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অর্থ লুটপাট, পাচার এবং ব্যাংকিং সেক্টরে ডাকাতির বিষয় একটি কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে ৪ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে। সে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু করা যেত। আওয়ামী সরকার নিজেদের লোকদের লোন দিয়ে প্রতিবছরে ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। যা গত ১৫ বছরে সাড়ে ২৯ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।”

তিনি পতিত শেখ হাসিনাকে বিশ্ব খুনি আখ্যায়িত করে বলেন, “শেখ হাসিনা একজন বিশ্ব খুনি। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টে প্রায় ১৪ শত লোককে হত্যা করার অভিযোগ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা খুনের রাজনীতির ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্রকে সাংবিধানিকভাবে হত্যা করার ইতিহাস। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সাংবিধানিকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। এতো কিছুর পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বরং দিল্লিতে বসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মের মাধ্যমে। আর তার দাফন হয়েছে দিল্লিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা দেশে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। এছাড়া গুম, খুন চালিয়ে বিরোধী মতের মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে। তাই আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের অপসারণ করেছে।”

সমাবেশে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিপুল সংখ্যক তরুণ নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন, রবিউল ইসলাম রবিন ও বাগেরহাট জেলার শহিদ তানু ভূঁইয়ার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাকিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

সমাবেশে প্রধান বক্তা যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, “বাংলাদেশের রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। আমরা দেখছি, শুনছি, সময় হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমাদের তারুণ্যের শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামলে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই তরুণ সমাজ একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আগে ঘরে ফিরে যাবে না।”

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেন, “মে মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় যুব সমাজ সকল ষড়যন্ত্র তছনছ করে তাদের অধিকার আদায় করে নিবে।”

আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ডু, কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, সাংবাদিক নেতা আমিরুল ইসলাম কাগজী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম শিমুল, বরিশাল বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, বিএনপি নেতা ডা. শহিদুল আলম, অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মাহবুবুল হক নান্নু, আবুল হোসেন খানসহ খুলনা-বরিশাল বিভাগের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ