অনশনে বসা দুজনকেই বিয়ে করবেন শাহীন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৫৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনশনে বসা দুজনকেই বিয়ে করবেন শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩, ২০২৪ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩, ২০২৪ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে বিয়ের দাবিতে এক যুবকের বাড়িতে দুই তরুণীর অনশন করছেন। যুবকের নাম শাহীন। তিনি সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামের ইকরামুলের ছেলে। গতকাল শনিবার রাত সাতটায় তার বাড়িতে ওই দুই তরুণী অনশন করে। তবে দুজনকে বিয়ে করতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শাহীন।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকেল থেকে রুনা নামে কলেজপড়ুয়া মেয়ে অবস্থান করে শাহীনের বাড়িতে। রুনার দাবি, শাহীন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার সাথে প্রেম করে আসছে। তাদের দুই পরিবারও বিয়েতে রাজি ছিল। কিন্তু শাহীন ধর্ষণ মামলায় আসামি হওয়ায় পরে তার পরিবার বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর পরিবার তার অমতে বিয়ে দিতে গেলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে শাহীনের বাড়িতে উঠে।

গত দুই মাস হলো সাদিয়া নামে আরেক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক জড়ায় শাহীন। প্রেমিকের বিয়ের কথা শোনার পর সাদিয়াও তার বাড়িতে আসে বিয়ের দাবিতে। এমন ঘটনায় শাহীন ও তার পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত। এর আগেও হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণসহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তারা এর একটা সমাধান চায়।

প্রতিবেশীরা জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে কলেজপড়ুয়া এক তরুণী শাহীনকে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে আসে। এরপর শাহীনের বাড়িতে ওই মেয়ে আসার খবর শুনে আরেক তরুণী আসে বিয়ের দাবিতে। ওই দুই মেয়ে দাবি করে শাহীন তাদের সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেম করে আসছে। এখন দুই মেয়েই শাহীনকে বিয়ে করতে চায়। এই নিয়ে সমাজের সবাই দ্বিধায় পড়ে আছে। কাকে রেখে কার সাথে বিয়ে দিবে।

মেয়ে রুনা জানান, শাহীনের সাথে আমার দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক। আমাদের বিয়েতে দুই পরিবারই রাজি ছিল। কিন্তু শাহীন ধর্ষণ মামলায় আসামি হওয়ায় আমার পরিবার আর মেনে নেয়নি। শুক্রবার আমার বিয়ের জন্য পরিবার থেকে চাপ দেয়। আমি শাহীনকে ছাড়া অন্য কাউকে বিবাহ করব না। এ কারণে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ায় আম শাহিনের বাড়িতে এসেছি। আমি ওকেই বিয়ে করব। শহীন যদি ওই মেয়েকে বিবাহ করে আমার কোনো সমস্যা নেই।

অপর তরুণী সাদিয়া খাতুন জানান, শাহীনের সাথে দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক। এর আগে শাহীন তাকে বিয়ের জন্য তার বাড়িতে আসতে বলে। আমি বাড়ি থেকে তার বাড়িতে আসি। তখন শাহীনের বাড়ির লোকজন ঝামেলা করায় সেদিন বিয়ে হয়নি। আজ আবার শাহীনের বাড়িতে আরেক মেয়ে আসছে বিয়ের দাবিতে। আমি তো ওকে ভালোবাসি। আমাকে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়েছে। আমাকে রেখে এখন আবার অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে চায়। এজন্য আমি আমার অধিকার আদায়ের জন্য শাহীনের বাড়িতে আসছি।

এ বিষয়ে শাহীন জানান, তাকে বিয়ে করতে যে দুই মেয়ে আসছে, তাদের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এখন নেই। তবে তারা যেহেতু তাকে বিয়ে করতে বাড়িতে চলে আসছে, তাদের দুই জনকে বিয়ে করতে কোনো আপত্তি নেই। সে দুইজনকেই বিবাহ করতে রাজি।

হলিধানী ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার জানান, গাগান্না গ্রামের শাহীনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে একই সাথে দুটি মেয়ে আসছে এটা খুবই দুঃখজনক। সামাজিকভাবে আমরা এমনটা প্রত্যাশা করি না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ