অনিবার্য পরিস্থিতি ছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না : নজরুল ইসলাম খান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ৯:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ৯:২০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খোদা না করুন, অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আমরা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হোক। তফসিল ঘোষণার যে সময় নির্ধারণ করা আছে, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলে আরও ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার পর আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং সম্ভবত শুক্রবার ভোরেই তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। তবে এর পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিএনপি রয়েছে এবং যথাসময়ে নির্বাচন চায়—এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
বৈঠকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং কোনো ভোটার যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয় বিএনপি। বিশেষ করে এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় দুটি ব্যালট ব্যবহারের কারণে ভোট গ্রহণে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি। এ কারণে প্রতি পোলিং বুথে ভোটারের সংখ্যা কমানো এবং মার্কিং প্লেসের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটের সময়সীমা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বাড়ানো যায় কিনা, সে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যালট বাক্সের সংখ্যাও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে ভোট দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
বিএনপির এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছে এবং আগামী রবিবারের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশনও চায় সব ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারুক।
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, ভোটার আইডি তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে পাসপোর্টকে ভ্যালিড ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, অনেক নাগরিকের, বিশেষ করে বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, কিন্তু পাসপোর্ট আছে। ন্যাশনাল আইডি ও পাসপোর্ট—দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদান করা বৈধ কাগজপত্র। এ কারণে পোস্টাল ব্যালটের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে কোনো বেসরকারি প্রেস ব্যবহার না করার বিষয়েও বিএনপি উদ্বেগ জানায়। দলটির আশঙ্কা, প্রাইভেট প্রেসে ব্যালট ছাপানো হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে যে কোনো বেসরকারি প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে না।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তার সুচিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিএনপি রয়েছে এবং যথাসময়ে নির্বাচন হওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় নাম না থাকা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি বড় কোনো সংকট নয়। নির্বাচন কমিশন চাইলে এখনও তার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ