অনেক রক্ত স্রোতের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি : রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনেক রক্ত স্রোতের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫ ১:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫ ১:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আশ্রয়, প্রশ্রয় পেয়ে আবার তার বর্বর শাসন ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটু পর্যায়পাত করেছি গণতন্ত্রের এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আমাদেরকে আসতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। আজকে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই এই দেশে যেন কোন বিক্ষোভ কোন আন্দোলন যাই হোক না কেন সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শর্ট গান বের করে গুলি করে হত্যার যে দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী দেখিয়েছে আন্দোলন দমনের জন্য অথবা যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে দমন করার জন্য তা চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন থেকে কোন বর্বর শাসন কোন বর্বর আইন প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। আবার শেখ হাসিনা তার বর্বর শাসন ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া, উনি আরেকটি বর্বর পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আশ্রয় পাচ্ছেন। আশ্রয় পেয়ে বাংলাদেশের ভেতর তিনি নানা ধরনের উস্কানিমূলক, চক্রান্ত করার জন্য তার নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু জনগণের সাড়া না পেয়ে এখন তারা হরতাল এবং অবরোধ করছেন অনলাইনে। কিন্তু তারা জনগণের মধ্যে যেতে পারছেন না। কোথায় তার যুবলীগ ছাত্রলীগ? কোথায় তার পুলিশ যাদেরকে দিয়ে নির্বিচারে গণতান্ত্রিক শক্তির রক্ত পান করেছেন লাশ করেছেন মাসুম বাচ্চাদেরকে।

সোমবার (৩ ফেব্রয়ারি) দুপুরে নবগঠিত মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী শেরে বাংলা নগরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘অনেক রক্ত স্রোতের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা আজকে ক্ষমতায় আছেন। আমরা চাই আগামী দিনে গণতন্ত্রের বিকাশ এবং গণতন্ত্রের সত্যিকার যে মুক্ত পরিবেশ যেখানে কথা বলা যাবে নির্ভয়ে, যেখানে মিছিল করা যাবে নির্ভয়ে, যেখানে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করা যাবে নির্ভয়ে। সেইটার জন্য এক রক্ত ঝরা আন্দোলনে বিগত ১৬ বছর বিএনপি’র অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মদান করেছে তাদের রক্ত ভেজা শার্টের বিনিময়ে আজকের এই পরিবেশ।

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘এমন সংস্কার করতে হবে যাতে কোন সরকারই যেন রক্ত চক্ষু দেখিয়ে জনগণকে দমন করতে না পারে। আমরা আমাদের স্বাধীন চিন্তা স্বাধীন মতামত যেন প্রকাশ করতে পারি কেউ যেন বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে। সরকারের কোন কোন উপদেষ্টা আমরা একটু সমালোচনা করলেই তারা বিরক্ত হয় তারা বিভিন্ন মন্তব্য করে তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন? আপনারা উপদেষ্টার পথ ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক দল করেন। গণতন্ত্রে তো বিরোধীদল কথা বলবে সমালোচনা করবে এবং এই সমালোচনার মধ্য দিয়ে সরকার সংশোধন হবে। আজকে যদি চালের দাম বাড়ে তাহলে কি আমরা কথা বলবো না? অনেক বিষয়ে সরকার আন্তরিকতার সাথে গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিন্তু এখনো বাজার সিন্ডিকেট আছে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় চুরি ডাকাতি বাড়ছে গুম হত্যা বাড়ছে, এটার দায় দায়িত্ব তো সরকারের উপরেই পড়বে। সরকারের বিরুদ্ধচারণ নয় সরকারকে আমরা আরও দায়িত্বশীল হতে বলি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে রিজভী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড: ইউনুস সাহেবের সরকারকে নির্বাচনী রোড ম্যাপ এবং নির্বাচনের ডেট লাইন দিতে হবে। জনগণ মনে করবে আমরা ১৬-১৭ বছর যেটা বঞ্চিত হয়েছি সেই বঞ্চনার দুঃস্বপ্ন যাতে তাদের দূর হয় সেজন্যই একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ডেট লাইন অর্থাৎ তারিখ ঘোষণা তাদেরকে করতে হবে। আমরা সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়, আমরা বারবার কি কি সংস্কার হওয়া দরকার সেটা বলেছি। সংস্কার হতে বেশি দিন সময় লাগে না কারণ সংস্কার যুগ যুগ ধরে চলবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া জনগণের যে দাবি, যে ডিমান্ড সেই ডিমান্ডের উপর ভিত্তি করেই তো সংস্কার করতে হবে। তার জন্য নির্বাচন আটকে রাখার কোন মানে হয় না।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা,সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ