অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে যা বললেন: আলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ৩:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দেশ যদি ভালো থাকে, আমি যদি গ্রামের একজন চৌকিদার, দফাদার হয় তাহলে সম্মানটা হবে রাষ্টপ্রতির মত। দেশ যদি খারাপ থাকে, তাহলে রাষ্টপ্রতির সম্মান হচ্ছে ঝাড়ুদারের মত। এই কথাটা মনে রেখে, ওনারা যাতে দেশ পরিচালনায় যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের পরামর্শ নেন তাহলে এটা জাতীয় স্বার্থে বিবেচনা হবে তা না হলে মনের দু:খে গান গাইতে হবে; তুমি সেই আগের মতই আছো নাকি অনেকখানি বদলে গিয়েছো।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে বলা হয় গাঙ্গেয় উপদ্বীপ। গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের ত্রিমুখী অবস্থানের মধ্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। এই কারণে বাংলাদেশ হয়েছে ভাটির দেশ। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, চীন, নেপাল, ভূটান এইগুলো হচ্ছে উজানের দেশ। যেকারণে আমাদের ক্ষণে ক্ষণে দুর্যোগে পড়তে হয়। এই দুর্যোগটা আরও বেশি কারণে দেখা যায়, যখন বৃহৎ শক্তি প্রতিবেশি দেশ ভারত তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী গরমের দিনে আমাদের শুকিয়ে মারে আর বর্ষার দিনে আমাদের ডুবিয়ে মারে।
তিনি বলেন, তাদের (ভারতের) যুক্তি হচ্ছে আমাদের বাচার জন্য তারা এটা করে। সেইক্ষেত্রে আপনি কোন বড় লেনদেন করতে পারবেনা, আন্তর্জাতিক নদী বন্টন আইনঅনুযায়ী। ভারতের সাথে পানি ন্যায্য হিস্যা আমরা আজ পর্যন্ত করতে পারেনি। পাইনি বলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি উপস্থান করেছেন; শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ফারাক্কা সমস্যা নিয়ে তিনি প্রথম জাতিসংঘে বিচার চেয়েছিলেন। তারপর ভারত কিছুটা নমনীয় হয়েছিলো। ফারাক্কার অনুরোধ দিয়ে গেছিলেন; মহরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। তখন কথা ছিলো ৪০ দিন পরীক্ষামূলক চলবে। কিন্তু শেখ মুজিবুরের সরকার এত উদাসীন ছিলেন, যেটা ৪০-৪৫ বছরেও শেষ হয়নি। যেটার বড় ভিকটিম হচ্ছে বাংলাদেশ।
যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আজকে আমাদের যিনি প্রধান উপদেষ্টা আছে, তিনি থ্রি জির কথা বলেছেন। একটা হচ্ছে শূন্য কার্বন, একটা হচ্ছে শূন্য দারিদ্র্য, আরেকটা হচ্ছে শূন্য বেকারত্ব। কিন্তু কার্বন নিঃসরণ যেখানে হয়, তারাই তাকে নোবেল দিয়েছে। এই কারণে আমার জানতে ইচ্ছে হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পরে যে কাজগুলো করার উচিত ছিলো, কোনটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, কোনটাকে মধবর্তী রাখা, কোনটাকে একটু দূরবর্তী স্থানে রাখা এই বিবেচনা এই সরকারের মধ্যে কারো নেই। তারা সবাই এনজিও পরিচালনা করেছেন; কারো দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। দেশ পরিচালনার বেশি অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির। বিএনপির কাছ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো, তাহলে ফেনী-সিলেটের বন্যার পর উত্তরঞ্চলে বন্যার আগাম কিছু করতে পারতাম আমরা।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম ট্রি প্লানটেশন করে গিয়েছে। তারপর করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে এমন কোন নেতাকর্মী নেই, যারা ৫ টি করে গাছ লাগান নাই। জেলা, থানা, উপজেলায় সড়কের পাশে যে গাছগুলো দেখছেন এইগুলো সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম করেছেন তিনি।
এবারের বন্যায় জাতীয় প্রচার দলসহ বিএনপি যেভাবে ঝাপিয়ে পড়েছে সেটা অন্য কোন দল করেনি। সেনাবাহিনী ও বিজিবি কিছু তৎপরতা ছিলো, কিছু জায়গায় যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই সরকারের কিছু উপদেষ্টা ঘুম থেকে ওঠে দেশে তারা সরকারের অংশ হয়ে গেছে। তারা বন্যায় সেই ধরনের তৎপরতা দেখানি, যা অত্যন্ত দু:খজনক। যেটা আজকে কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে। আমরা মনে করি জবাবদিহিতার যে জায়গা সেটা বিএনপির মধ্যে যতটা রয়েছে সেটা আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করে যাচ্ছি।
বিএনপি’র এই নেতা বলেন, গণমাধ্যমে খবর এসেছে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাপূরণে… কোটি টাকা প্রকল্প বিলাস। ফলে কি হয়েছে; নেত্রকোনা হাওর অঞ্চলে হাওরের মাঝখানে ফ্লাইওভার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছেন। এখন কি হচ্ছে, বন্যার পানি যখন ধেয়ে এসেছে তখন আশেপাশের গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাষ্ট্রের যা ক্ষতি তা হয়ে গেছে। আমাদের জনগণের যে ট্যাক্সের টাকা জমা হয়েছিলো তা প্রচণ্ডভাবে অপব্যায় হয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশটাকে র্যাপসার করে দিয়েছে। রাষ্টপতি থেকে ভগ্নিপতি এমন কেউ নাই যারা কুর্কীতির সাথে জড়িত নয়, এটা হচ্ছে রাজনৈতিক দূষণ।
জিয়াউর রহমানের খাল খনন নিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিজ হাতে পুরো দেশে খাল খনন করেছেন। যার উপকারীতা আমরা পেয়েছি। তার আমলে খাদ্যশস্য রপ্তানি করেছি, যা একমাত্র রেকর্ড।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সহ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ