অপেক্ষার প্রহর কবে শেষ হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০২৪ ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০২৪ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার
আজ সকাল থেকে সারাদিন ঢাকার কচুক্ষেত আয়না ঘরের সামনে গুম হওয়া সন্তানদের স্বজনরা এবং মায়ের ডাক এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকে ফিরে এসেছে তাদের মায়ের কোলে। যারা এখনো ফিরে আসেনি তাদের পরিবারের সদস্য কারো সন্তান,কারো বাবা,কারো স্ত্রী, কারো বোন ও ভাইয়েরা উপস্থিত হয়েছে। আজ এক লাইভে সাবেক এস আই মাসুদ রানা গুম হওয়া সন্তানদের নিয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে এবং তিনি আরো বলেছেন যারা নতুন করে দায়িত্বে আসবেন তারা যদি জানতে চায় তাহলে আরো অনেক তথ্য দিতে পারবেন। মায়ের ডাক এর অনেক অনুষ্ঠানে আমাদের সকলের প্রিয় অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল স্যার ছিলেন।

তিনি অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে স্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি গুম হওয়া সন্তানদের স্বজনদের পাশে আগে যেমন দাঁড়িয়ে ছিলেন, আগামীতে আরো শক্তভাবে পাশে থাকবেন।

আমাদের সেনাবাহিনীর প্রধান যেদিন রাজনৈতিক দল সহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার নেতা এবং শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে জামাতের আমীর উপস্থিত ছিলেন এবং আমাদের প্রিয় স্যার আসিফ নজরুল ও ছিলেন। মহামান্য রাস্ট্রপতির কাছেও অন্যদের সাথে তাঁরাও ছিলেন। আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ এর পরে আয়নাঘর থেকে তিন জন বের হয়ে আসলো যা আমরা পত্রিকার সংবাদে জানতে পারলাম।সেখানে ৮ ও ৯ বছর পর জামাতের সাবেক মরহুম দুই শীর্ষনেতার ২ ছেলে বের হয়ে আসলো।আমরা খুব আশাবাদী হলাম এবার হয়তো সবাই বের হয়ে আসবে।এরপর থেকে স্বজনদের চোখে আর গুম নেই, সারারাত জেগে থেকে সকালে উঠে আয়নাঘরের সামনে গিয়ে হাজির হয়।এইবুঝি ওরা ফিরে আসবে।এর মধ্যে মাইকেল চাকমা ফিরে এলো।সবার আশা ও প্রত্যাশা বেড়ে গেলো।কিন্তু আর কেউ ফিরে আসছে না?এদিকে ডিবি অফিসের গোপন সেল এ কাউকে খুঁজে পাওয়া গেলো না।কিন্তু মনে হলো ওখানে অনেকেই ছিল। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো।

Rab 1 শুনতে পেলাম সেখানে গোপন আস্তানা আছে। সেখানে কেন এখনো তল্লাশি চালানো হচ্ছে না।আমরা কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করতে চায় না।এখনো যারা বেঁচে আছে তাদের সকলকে তাদের পরিবারের কাছে আপনাদের নিয়মে ফিরিয়ে দিন এবং তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করুন।
মৃত্যুদের কবরে একটুকরা মাটি দিতে চায়।আর যদি গভীর সাগরে ডুবিয়ে মেরে ফেলেন তাহলে সেখান থেকে একটু মাটি এনে নতুন করে কবর দিতে চায়।চূড়ান্ত বিজয়ের পর কেন জীবন ও লাশ নিয়ে লুকোচুরি খেলা চলছে। দোহাই এসব বন্ধ করুন। স্বজনদের কাছে হয় জীবন নয়তো লাশের নিশ্চিত খবর দিন। পুলিশের সাবেক একজন যখন প্রকাশ্যে এম ইলিয়াস আলীসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে বলছেন। কাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের নামের তালিকা নতুন রাস্ট্রের যারা দায়িত্ব নেবেন তারা অবশ্যই প্রকাশ করবেন। আমরা আর অপেক্ষা করতে চায় না।১০ বছর পর ফিরে এসে একজন দেখেন তার স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে।

এই কষ্টের কোন জবাব কি কারো কাছে আছে? ছেলের শোকে অনেক বাবা-মা না ফেরার দেশে চলে গেছে। অনেক শিশু বড় হয়েছে কিন্তু স্বাভাবিক আচারণ করছে না।অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ অপেক্ষায় প্রহর গুনতে গুনতে মনে করেছে হয়তো আর ফিরবে না।সে কারনে নতুন সংসার শুরু করেছে। গুম এর চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো। যাকে মেরে ফেলা হয় তার একটা মৃত্যু দিবস আছে। কিন্তু যে গুম হয় তার জন্মদিন থাকলেও মৃত্যুদিন নেই। তার রেখে যাওয়া সম্পদ,টাকা বা অন্যকিছু কেউ চাইলেও ভোগ করতে পারেনা।গুম হওয়া সন্তানদের স্বজনরা বছরের পর বছর অপেক্ষায় রয়েছে এর কি কোন শেষ নেই?
একটাই দাবি ফিরিয়ে দাও।
মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মায়ের ডাক
জনতার আওয়াজ/আ আ