অভ্যুত্থান নয়, বড় আন্দোলন হয়েছে: সেলিমা রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অভ্যুত্থান নয়, বড় আন্দোলন হয়েছে: সেলিমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৪ ৭:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৪ ৭:২৮ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশের রাজনীতির অধিকাংশ স্থান ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

র‌বিবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং এখন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের ভোট বর্জনের আহ্বানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু আমরা আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। ৬৯’র গণ অভ্যূথানের সময়ের সে ছাত্র ও সুশীল সমাজ আর নেই।

যারা লড়াই করেছে দেশের জন্য ও মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। তখনকার যে সুশীল সমাজ ছিল, সেই মধ্যবিত্ত সুশীল সমাজ। তারা ছিল বিবেকবান এবং সত্য কথা যারা লিখতো, তাদের লেখা পড়ে তখনকার ছাত্র সমাজ গণ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

সেই সুশীল সমাজ এখন আর নেই। আজকে ছাত্র সমাজে দেখা যাচ্ছে হেলমেট বাহিনী, দুর্নীতি এবং নানা রকম কর্ম পরিধি। আজকে সুশীল সমাজ দ্বিধা বিভক্ত। সত্যিকার যে মধ্যবিত্ত সুশীল সমাজ ছিল, বাংলাদেশে যে একটা মূল্যবোধ ছিল, সেই মূল্যবোধ ও সমাজ ব্যাবস্থা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

তবে এখনো কিছু লেখক আছেন, যারা এখনো সঠিক কথা লিখে। এখনো তারা সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আজকে ব্যাবসায়ীদের হাতে অধিকাংশ রাজনীতি চলে গেছে।

তারা তাদের মুনাফাভোগীতা উদ্ধার করছে এবং মানুষকে শোষণ করছে। কিভাবে মেহনতি মানুষকে পিষ্ট করে নিজের প্রতিপত্তি বাড়াবে, সে চেষ্টা করছে। বর্তমান সংসদের বড় একটি অংশ ব্যাবসায়ী। এই যে ব্যাবসায়ীদের হাতে রাজনীতি চলে যাওয়া, রাজনীতিবিদ দের হাতে রাজনীতি না থাকা, এটাও একটা বড় কারণ।

আমাদের আন্দোলনে জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা কোন অভ্যুত্থান করতে পারিনি। নানা রকম পরিবেশের কারণে সেটা আমরা করতে পারিনি।

আমাদের সংবিধান ও আইনের সংকট ছিল। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছামতো সংবিধানকে তাদের মত করে ছিঁড়ে টুকরো করছে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিচালিত করছে, এরমধ্যে আমরা পড়ে গেছি । তারা তাদের সংবিধানের বাহিরে আর কিছু হতে দিবে না।

বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন বলতে আর কিছু নাই। সেটি এখন এ সরকারের হাতে বন্দি। আন্দোলনের মাধ্যমে এ সংকটগুলো আমরা দূর করতে পারিনি। আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি সংকট।

বিশ্ব রাজনীতির যে খেলা সেটা আমাদের সাধারণ জনগণ বুঝে নাই। আমরা তাদেরকে বুঝাতে পারি নাই, সেটা আমাদের ব্যার্থতা। আমরা জানতাম নির্বাচনটা হয়ে যাবে। আমাদের হাতে নির্বাচন প্রতিহত করার কোন অস্ত্র ছিল না।

আমাদের আন্দোলন ক্ষমতার লড়াই নয়। আমরা রাষ্ট্রকে সংস্কার করতে চেয়েছি । যেখানে সত্যিকার অর্থে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হবে। যেখানে মানুষের মৌলিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আগামী দিনে আমাদের প্রদান টার্গেট হবে এ ফ্যাসিষ্ট সরকারকে দূর করা।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গত ৭জানুয়ারীর নির্বাচনকে মানুষ নির্বাচন হিসেবে দেখেনা। আওয়ামী লীগ চাপ দিয়েও ৫থেকে ৭শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ মানুষ ভোট প্রত্যাখ্যান করে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের মৃত্যু ঘটেছে।

অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তাদেরকে অনাস্থা জানিয়েছে। ডামি প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রশ্ন করার প্রয়োজন বোধ করেনি। আওয়ামী লীগ নিজেদের গঠনতন্ত্র ও দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এজন্য একদিন আওয়ামী লীগের বিচার করা হবে।

মানুষকে ভোটের নামে প্রতারিত করেছে।আগামী ৭দিনের মধ্যে তারা সরকার গঠন করলেও পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যাবসা বানিজ্যের স্বার্থে অনেক দেশ হয়ত তাদেরকে সমর্থন দিবে।

কিন্তু মানুষের মাঝে সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্জিভূত ক্ষোভ রয়েছে। মানুষ যেখানে সরকারকে বিদায় জানাতে চায়, সেখানে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন পর্যালোচনার দাবি রাখে। আজকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে। জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে। এসরকারের পতন অনিবার্য।

জুনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এমন একটি সরকারের অধীনে আছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিষ্ট সরকার রয়েছে; তাদের কাছ থেকে যেখানে যা প্রয়োজন সেই উপাদান নিয়ে শাসন করছে। এদেরকে এক কথায় ভূষিত করা দুস্কর।

এঈ ফ্যাসিষ্ট রেজিম টিকিয়ে রাখতে শেখ হাসিনা সব কিছু করতে পারে। এমনকি প্রধান বিচারপতি হলেও তাকে দেশ ছাড়তে হবে। বাংলাদেশের প্রশাসন বিদেশ নির্ভর। এর বাইরে গেলে আমি বিপদে পড়ে যাবো-এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

গত ৭জানুয়ারী ভোটার বিহীন ভাগবাটোয়ারা নির্বাচন করেছে। যেখানে ২৪০টি আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলনা। হিটলারের মত নাশকতা করে বিরোধীদলের উপর চাপানোর মত বর্তমানে সরকার বিরোধী দলের উপর দায় চাপাতে চায়।

সব যায়গায় বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করতে চায়। জনগণ রাজপথ দখল করতে না পারলে বিদেশী সমিকরণ বদলাবে। অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। টাকা চাপিয়ে সেগুলোকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বিগত সাথে জানুয়ারি নির্বাচনে এ দেশের জনগণ সরকারের প্রতি পূর্ণ অনাস্থা জানিয়েছে। ১০ শতাংশের বেশি ভোট দেয়নি।

জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে সরকারকে। তারপরও সরকার গঠন করা হয়েছে তাদেরকে ক্ষমতাচ্যূত করতে আমরা এখনো সক্ষম হয়নি। ৬৯গণ অভ্যুত্থানের মত আজকে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে।

২০২৪ সালে নির্বাচনে আজকে ভোট ও সার্বভৌমত্বের আন্দোলন অভিন্ন। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার বিপন্ন। আজকে নতুন করে ভাবতে হবে। ৭ জানুয়ারী নির্বাচনকে মানুষ বর্জন করেছে। আজকে আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের টোপ দেয়া হয়েছে।

সরকার একটি পরিপূর্ণ ফ্যাসিষ্ট চরিত্র ধারণ করেছে। পরিপূর্ণভাবে দ্বিতীয় বাকশাল কায়েম হয়ে গেছে। তাদের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আবার ভাবতে হবে।নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তৃতা করেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ