অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কি সংস্কার হয়েছে, প্রশ্ন মান্নার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
‘সবাই এক অন্ধকার চোরবলয়ে ডুবে যাচ্ছি’—বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। অভ্যুত্থান-পরবর্তী ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কি সংস্কার হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ‘আমি বলব, ড. ইউনূস মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কি সংস্কার হয়েছে?’
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ওই সভার আয়োজন করে।
মান্না বলেন, ‘আমরা এক অন্ধকার চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছি সবাই। এখন এমন সব প্রস্তাব দিচ্ছে, যে প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব না।’
হতাশা প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘দেশটা যে কোন দিকে যাচ্ছে, সে নিয়ে মানুষ কিন্তু দিশেহারা। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে, ভাই, কি হবে? আমি বলি, নির্বাচন হবে। কিন্তু কিভাবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে বড় দুটি দল ছিল—বিএনপি আর আওয়ামী লীগ। এখন আওয়ামী লীগ নেই, বিএনপি একক। আর বিএনপি একক বলেই জামায়াতে ইসলামী আলাদা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাও। জামায়াত বলছে, না, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দাও।’
এ সময় সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন মান্না। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সেদিন আমাদের ডেকেছিলেন। সকল রাজনৈতিক দলকে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন। নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন—আমি সংস্কার ভিত্তিতে নির্বাচন দেব।’
তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি ড. ইউনূসের কাছে জিজ্ঞেস করেছি, বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচন। জামায়াত চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ছাত্ররা যে দল গঠন করবেন, তারা চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কোনটা আগে হবে? মিলবে তো? সবার মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে?’
সেনাবাহিনী প্রধানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘প্রধান সেনাপতি বলেছেন, আপনারা এখন একক না হলে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।’
মান্না আরও বলেন, ‘একটা বক্তব্যে সেনাপ্রধান প্রতিটি শব্দে সবাইকে সতর্ক করেছেন।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কোন পথে যাবে দেশ? কে সিদ্ধান্ত নেবে? কী করলে সঠিক হবে এবং কিভাবে?’
এখন পর্যন্ত কি সংস্কার হয়েছে তা সরকারের কাছে জানতে চেয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা মান্না বলেন, ‘৬ মাস গেছে। ড. ইউনূস যেভাবে বলছেন, তাতে ৬ মাস পরে নির্বাচন হবে। তাহলে এই ৬ মাসের মধ্যে এসব কাজ করতে পারবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব, ড. ইউনূস মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কি সংস্কার হয়েছে? যদি বলেন, হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্টে একটা সংস্কার হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন রাজনীতি হয় ভোটের লড়াইয়ের ভিত্তিতে, তখন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠতে পারে না।’
এ সময় আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে কি না—তা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে জানতে চান মান্না। তখন সকলেই সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘না, পারবে না।’
তখন মান্না বলেন, ‘যদি না পারে, সেই বিষয়ে কি আইন করেছে? কেন পারবে না? আইন তো করেননি। আওয়ামী লীগ যদি ভোটে দাঁড়াতে পারে, তাহলে প্রথম হয়তো বিএনপি হবে, দ্বিতীয় হবে আওয়ামী লীগ। তাহলে তো আগামীতে আওয়ামী লীগ আবার প্রতিষ্ঠিত হলো!’
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
জনতার আওয়াজ/আ আ