অসংখ্য নারীর জীবন নষ্টের কারিগর তৌহিদ আফ্রিদি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ২৯, ২০২৫ ৫:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ২৯, ২০২৫ ৫:২২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মডেল বানানো ও বিয়ের প্রলোভনে অসংখ্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেইল ও জীবনে বিষ ঢালার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।
অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সুন্দরীদের টার্গেট করতেন তৌহিদ আফ্রিদি। ‘স্ট্রিম কার’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের শিকার করতেন তিনি। আবার বিভিন্ন ক্লাব ও অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের কব্জায় নিতেন। এরপর এসব নারীকে পাঠাতেন সাবেক মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে। বিনিময়ে অনলাইনে প্রভাব বিস্তার করতেন আফ্রিদি। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন অনলাইন মাফিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের ছত্রছায়ায় অনলাইন মাফিয়া বনে যান আফ্রিদি। এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে তার কথামতো চলতে হতো অনলাইন ক্রিয়েটরদের। কথা না শুনলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো গোপন ডেরায়। সেখানে চালানো হতো মারধর ও হুমকিধমকি। কখনো প্রশাসনের সামনেই গুম করার হুমকি দিতেন তিনি।
অবৈধ ক্ষমতার দাপটে অন্তত অর্ধশত তরুণীকে জোর করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করান আফ্রিদি। এ কাজে তাকে সহায়তা করতেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ছেলে জ্যোতি। জুলাই মাসের দুটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফাঁস হতে শুরু করেছে তৌহিদ আফ্রিদির অন্ধকারজগতের নানা তথ্য। ভুক্তভোগী নারী-পুরুষসহ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এসব তথ্য নিয়ে কাজ করছে।
জানা গেছে, কামাল-হারুন-আফ্রিদি সিন্ডিকেট কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। আফ্রিদির প্রধান টার্গেট ছিল নারী সাপ্লাই, শারীরিক সম্পর্ক, মদ্যপান ও ভয়ভীতি দেখানো। এ ছাড়া মাদক কারবারেও ছিল তার সরাসরি সম্পৃক্ততা। হারুন-কামালের আশ্রয়ে ঝামেলা ছাড়াই এসব চালাতেন।
‘স্ট্রিম কার’ অ্যাপের মাধ্যমেই তিনি অনলাইন জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই অ্যাপ ব্যবহার করে টার্গেট করতেন তরুণীদের। পাশাপাশি তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর অবৈধ দখলদারির পেছনেও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন হারুন ও কামাল। ডিবি অফিসে আফ্রিদির নির্দেশে তলব করা হতো যাকেতাকে, যেখানে চলত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণীরা জানান, সাবেক সরকারের আমলে নারী সাপ্লাই, চাকরিবাণিজ্য, মাদক কারবার ও সম্পদ দখল—সব কিছুর সঙ্গেই জড়িত ছিলেন তৌহিদ আফ্রিদি। বিয়ের আশ্বাস ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য তরুণীর জীবন নষ্ট করেছেন তিনি। তার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না, কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়েম, তানভীর রাহী, প্রত্যয় হিরন, স্বপন আহমেদসহ একাধিক ব্যক্তি তার অত্যাচার ও আধিপত্যের ঘটনা তুলে ধরেছেন।
এদিকে সিআইডি গতকাল এক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে। আইনসংগত কারণে এখন পর্যন্ত তদন্তসংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ