অসহায়দের মুখে হাসি ফোটায় ‘মেহমানখানা’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ১৭, ২০২৪ ৫:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ১৭, ২০২৪ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
২০২০ সাল থেকে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করে আসছে মেহমানখানা। করোনার দুঃসময়ে রাজধানীর দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে, বর্তমানে প্রতি শুক্রবারই হয় এই আয়োজন। একই সাথে প্রতি রমজান মাসজুড়েই থাকে ইফতার আয়োজন।
মেহমানখানার প্রধান উদ্যোক্তা আসমা আক্তার লিজা বলেন, পেশা কিংবা বিত্তের বিচার নয়, যাঁদের পদচারণা পড়বে, তাঁরাই মেহমানের মর্যাদা পাবেন। মেহমানখানা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে, করোনার প্রথম সাধারণ ছুটির সময়ে। পুরো বিশ্বের চিত্র ছিল দুর্বিষহ। রাজধানী ঢাকার চিরচেনা চিত্র পাল্টে যায়। ঢাকা শহর স্তব্ধ, নির্বাক। সবাই ভাবছে, মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে, কীভাবে কাটবে পরবর্তী দিনগুলো। ব্যাংক-ব্যালান্স শেষ হবে, মানুষ চাকরিহারা হবেন। ক্ষুদ্র চাকরিজীবীরা হারাবেন ছোট্ট চাকরিটি। মানুষ খাবার না পেলে প্রাণীরা কী খাবে? এসব চিন্তা লিজাকে কুরে কুরে খায়। এ সময় তিনি কাক, কুকুর ও অন্য প্রাণীদের জন্য খাবার নিয়ে ঘুরতেন রাজধানীর আনাচে-কানাচে। কী দুর্বিষহ দিন! পথশিশুরা নিরন্ন, খাবার খুঁজছে। অথচ মানুষকে ঘরে থাকার কথা বলা হয়েছে। মানুষ খাবার পেলে অন্য প্রাণীও বাঁচবে- এ চিন্তারই ফসল মেহমানখানা।
তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে শ্রমজীবী অসহায়, অন্নহীন মানুষের ঠিকানা হয়ে উঠেছিল রাজধানীর লালমাটিয়ায় ডি-ব্লক এলাকা। আর এখানেই রাস্তার পাশে ফুটপাতে চালু হয় আমার মেহমানখানা। পথশিশুসহ বহু মানুষ খাবারের সন্ধানে এসে এখানকার অতিথি হয়েছেন। তবে নতুন খবর হলো, সেই পথশিশুরা এখন পড়তেও আসে এখানে।
সমাজে অনেক ভালো মানুষ আছেন। যারা খুব নীরবে মেহমানখানায় চাল-ডাল-পেঁয়াজ দিয়ে যান। কেউ বা স্বেচ্ছায় শ্রম দেন। এটা আসলে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, আমাদের মানবিক মূল্যবোধ। যারা নিয়মিত এখানে খেতে আসেন তাদেরও অনেকে এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সবার অংশগ্রহণেই উদ্যোগটি চলছে, বলে যুক্ত করেন তিনি।
আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মানুষের সাহায্যে আর স্বেচ্ছাসেবীদের চেষ্টাতেই চলে নিরন্নদের অন্নের জোগান। স্বেচ্ছাসেবীদের অনেকে সকাল থাকে রাত পর্যন্ত এখানে কাজ করেন। অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আনন্দে ভুলে যান সারা দিনের ক্লান্তি।
মেহমানখানার প্রধান উদ্যোক্তা আসমা আক্তার লিজা নানা সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। বেড়ে উঠেছেন কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায়। তিনি বলেন, মেহমানখানা মানবিক সংগঠন। এমন মহৎ উদ্যোগে চাইলে আপনিও পাশে থাকতে পারেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ