অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিমের বাজার নষ্ট করছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, অক্টোবর ১৪, ২০২২ ১:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, অক্টোবর ১৪, ২০২২ ১:৩৫ অপরাহ্ণ

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং কারবারিরা আছেন তারাই ডিমের বাজারের পরিবেশ নষ্ট করেন। প্রথমে ডিমের দাম বাড়ার পর ভোক্তা অধিকার অভিযানে নামলে ডিমের দাম কমে আসে। অনেকেই ডিম মজুদ করে রাখার দৃশ্যও দেখেছেন। তাই বাজার ব্যবস্থার দিকে নজর দিলেই অনাকাঙ্ক্ষিত দাম বাড়বে না। সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাজার ব্যবস্থাপনা আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ নয় জানিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, তাও আমরা বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব। কারওয়ান বাজারে ডিম আসার পরে একটা গ্রুপ যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারেন, আমরা খেয়াল রাখব বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
মন্ত্রী বলেন, একটা সময় আমরা সকলে চাইলেও ডিম খেতে পারতাম না। পোল্ট্রি শিল্পের সাথে যারা জড়িত তারা নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন। যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আমাদের পুষ্টি চাহিদার যোগান দিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ডিমের উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেরই মুরগীর বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের সেই ক্ষতির কথা ভুলে গেলে চলবে না।আমাদের অনেকেই ডিমের দাম বৃদ্ধি নিয়ে লাগামহীন বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আমাদের উৎপাদন খরচের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এসময় মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ বলেন, স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন যারা, তাদের খাদ্য তালিকায় ডিম থাকবেই। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে অন্যতম ডিম। যা দেশের পোল্ট্রি শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে ডিম রফতানির দিকেও দৃষ্টি দেওয়া দরকার।
ড. নাহিদ রশীদ বলেন, দেশের বাজারে ডিমের দাম বাড়ার কারণ অনেকগুলো হাটে যাওয়া। এর জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। তাহলেই ডিম থেকে পুষ্টির চাহিদা মেটানো যাবে। বর্তমান বাজারে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকার কম। স্কুলে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধ ডিম দেওয়া কথা উঠে আসছে, আমরাও চিন্তা করছি। কারণ সিদ্ধ ডিম দেওয়া জটিল কিছু নয়।
প্রাণীসম্পদ অধিদফতর মহাপরিচালক ডা. মনজুর হোসেন শাহজাদা বলেন, ডিম একটি সুষম নিরাপদ খাদ্য। যে কোনো বয়সের লোকই নিরাপদ মনে করে ডিম খেতে পারেন। বর্তমান বাজারে ডিমের বাজার বেশি, তবে গণমাধ্যমকর্মীরাও খেয়াল রাখতে হবে আমাদের ভোক্তারা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন। সেই সাথে উৎপাদন খামারিরা ক্ষতির মুখে না পড়েন। কারণ ডিম গরিবের পুষ্টিগুণের চাহিদা মেটাতে পারে।
ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতিদিন একটি ডিম পুষ্টিময় সারাদিন’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার সারাবিশ্বে একযোগে বিশ্ব ডিম দিবস পালন করা হয়।
দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে দিবসটি পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশনের কনফারেন্সে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ