আঁখির মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ডা. সংযুক্তা সাহা - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আঁখির মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ডা. সংযুক্তা সাহা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ২:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ২:১৫ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হসপিটালে ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণায় মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সংযুক্তা সাহা। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বাস করেন, সেন্ট্রাল হসপিটাল আমার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করেছে। তারা এমন অনিয়ম করবে, আমি ভাবতেও পারিনি।’

মঙ্গলবার (২০ জুন) নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংযুক্তা সাহা বলেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি করেছেন। সেক্ষেত্রে দায় হাসপাতালেরই বর্তায়।’ এর আগেও তার অনুপস্থিতিতে, তার নামে ডেলিভারি হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সঠিকভাবে কিছু বলেননি।

দৈনিক অতিরিক্ত ডেলিভারির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি নরমাল ডেলিভারিতে উৎসাহিত করি। আর ডেলিভারির কোনো সময় হয় না। যে কোনো সময়ই হতে পারে। সেজন্য আমাকে ওভারটাইম করতে হয় অনেক সময়।’

অতিরিক্ত ডেলিভারিতে অতিরিক্ত যে মুনাফা হয় সেটাতে তিনি লাভের ৪ ভাগের ১ ভাগ পান বলেও জানান।

এর আগে সোমবার (১৯ জুন) নবজাতকসহ মাহবুবা রহমান আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করে হাসপাতালটি।

হাসপাতালটির সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আঁখির চিকিৎসায় হাসপাতালের অবশ্যই গাফিলতি ছিল। গাফিলতি ছিল প্রথমত ডা. সংযুক্তা সাহার, তারপর ওটির চিকিৎসকদের, কারণ সে সময় তারা সিনিয়র ডাক্তারদের ডাকেননি।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আসার কথা। এরই মধ্যে পাঁচ দিন চলে গেছে, আর বাকি আছে দুদিন। আসা করছি এই সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’

হাসপাতালের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম তো এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট এলেই আমরা অ্যাকশনে যাব।’

একজন চিকিৎসকের পক্ষে প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ রোগী দেখা কতটা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে গেলে একজন চিকিৎসকের দৈনিক এত রোগী দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু সংযুক্তা সাহা দেখতেন, কী বলব আর এটি নিয়ে।’

হাসপাতাল প্রশাসন কি তাহলে এ বিষয়গুলো এতদিন জানতো না? এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ডাক্তারের কাছে এলে চিকিৎসা তো মূলত তারাই দেয়। তারপর কোনো একটা এক্সিডেন্ট ঘটলেই সেটা আমাদের কাছে আসে। বাইরে বিষয়গুলোতে আমাদের অবগত করা হয় না। এজন্যই আমরা এই বিষয়গুলো জানতে পারিনি।’

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন প্রসব ব্যথা নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে আসেন আঁখি। ওইদিন নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করার কথা থাকলেও পরে সিজার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও দেখে প্রতিষ্ঠানটির গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক সংযুক্তা সাহার কাছে এসেছিলেন তিনি।

রোগী এলেও তিনি আগেই হাসপাতাল থেকে চলে যান। তবে সেটি গোপন রাখেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসবকালে আঁখির মূত্রণালি, মলদার কেটে ফেলা হয়েছে জানান মৃতের পরিবার।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পরদিনই আঁখিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। অন্যদিকে জন্মের কয়েক ঘণ্টার পরই মারা যায় নবজাতক। আট দিন চিকিৎসাধীন থেকে রবিবার মা আঁখিও মারা যান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ