আওয়ামী লীগই দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল : মোশাররফ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগই দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল : মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২০, ২০২২ ৩:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২০, ২০২২ ৩:২৯ অপরাহ্ণ

 

আওয়ামী লীগই দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা যখনই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেই, সরকার তখনই বলে আমরা নাকি ভায়োলেন্স করব। অথচ আওয়ামী লীগের আমলে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে দেশের ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার(২০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকার বিভাগের সমাবেশ থেকে আমরা ১০ দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। ১০ দফার মুলকথা ছিল, এই অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অবৈধ সংসদ বাতিল করতে হবে। এদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে। এদেশের মানুষ যাতে নিজের হাতে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দমত প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। এদেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

‘বিএনপি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে‘ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যে মোশারফ বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বিভিন্নভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করছে। তাদের সত্যের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এ ধরনের কথা বলে দেশের জনগণকে তারা বিভ্রান্ত করতে চায়। এরা গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে দিনের ভোট রাতে করে। গায়ের জোরে। এদেশের রাষ্ট্র কাঠামো একটি একটি করে ধ্বংস করেছেন আওয়ামী লীগ।

তিনি আরো বলেন, ‘৭২ থেকে ’৭৫ এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সে সময় তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে, বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। এই দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে তারা লুটপাটের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করেছিল।

কাদের আমলে রক্ষী বাহিনী তৈরি করে দেশের ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিল কাদের আমলে- আওয়ামী লীগের আমলে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, শেখ হাসিনা আবারো ২০১৪, ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। আজকে আলোচনা করবেন না, উনি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলবেন না! ওনার মন মতো উনি নির্বাচন করবেন! আমরা বলতে চাই, ১৪ সাল এবং ১৮ সাল ভুলে যেতে হবে। এই বাংলাদেশের নির্বাচন হলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটা যদি আপনি না করেন। তবে ৫২, ৬৯, ৯০ এর মত আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তার অধীনে নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ জনগণের সরকার নির্বাচিত হবে। সেই সরকার হবে বিএনপি সরকার।

সভাপতি বক্তব্য আফরোজা আব্বাস বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগের বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে সরকার যে ক্র্যাকডাউন করে হাজার হাজার গ্রেপ্তার করেছে। তারা সমাবেশ কে বানচাল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এই সরকারের আমলে নারীরা বেশি নির্যাতিত হয়েছে। নারীরা কান্না করে, গুম, খুন, গ্রেফতার হওয়া স্বামী-সন্তানদের জন্য। গুলি করে আমাদের ভাইদের হত্যা করছেন। আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা আর ভয় করি না। নারী নেত্রীসহ গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ সহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর নেতৃবৃন্দ। বিএনপির গ্রেফতার হওয়া সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ